বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমান আজ শেরপুর আইনপুর মাঠে অনুষ্ঠিত র্যালিতে মৌলভীবাজারকে সরকারের অবহেলার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। রাহমানের বক্তব্য অনুসারে, পূর্বতন শাসক দল এই অঞ্চলে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। র্যালিটি সিলেট থেকে বিএনপি নির্বাচনী প্রচার চালু করার পর দ্বিতীয় স্টপ, যেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
রাহমান ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসা শাসনকে ‘অধিকারের শাসন’ বলে সমালোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন, এই সময়ে ভোটাধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজের অভাব দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে মৌলভীবাজারে কোনো চিকিৎসা কলেজ গড়ে ওঠেনি।
তরিক রাহমানের মতে, গত পনেরো বছরে এই এলাকায় কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া কেবল অবহেলা নয়, বরং মানুষের জীবনের প্রতি প্রতারণা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মৌলভীবাজারের বাসিন্দারা বর্তমানে চিকিৎসা সেবা পেতে সিলেট বা ঢাকায় যাত্রা করতে বাধ্য, যা সময়, অর্থ এবং কখনো কখনো প্রাণের ঝুঁকি বহন করে। রাহমান এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এই পরিস্থিতি জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি নেতা প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে অবহেলিত অঞ্চলে চিকিৎসা কলেজ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দ্রুত স্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনা সরকারী অগ্রাধিকারে থাকবে এবং শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।
র্যালির সময় রাহমানের মন্তব্যে উপস্থিত ভক্তরা তালি ও নাড়া দিয়ে সমর্থন জানায়। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন না হলে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং তা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।
তরিক রাহমানের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাহমানের দাবি অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা অবহেলা নির্বাচনী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এবং এটি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মৌলভীবাজারের মতো দূরবর্তী জেলা গুলোতে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন না হলে রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাহমানের এই র্যালি, শিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি দল ইতিমধ্যে সিলেট থেকে শুরু করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সমাবেশ চালু করেছে। রাহমানের মতে, স্বাস্থ্যসেবা অবহেলা শুধুমাত্র অতীতের দোষ নয়, বরং ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের বিষয়।
মৌলভীবাজারের স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে স্থানীয় নেতারা দীর্ঘদিন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। রাহমানের এই মন্তব্যে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকারী উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান হবে।
সামগ্রিকভাবে, তরিক রাহমানের র্যালি মৌলভীবাজারের স্বাস্থ্যসেবা সমস্যাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই বিষয়টি নির্বাচনী পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ভোটারদের প্রত্যাশা বিবেচনা করলে।
এই র্যালি এবং রাহমানের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা অবহেলা নিয়ে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন হতে পারে এবং এটি আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, সরকারী দিক থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর বা পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।



