জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) ৩০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দাখিল করেছে, তবে জামায়াত-ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার দলগুলো ছয়টি নির্দিষ্ট আসনে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেনি। এই পরিস্থিতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জোটের আসন-বণ্টন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
NCP সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যাহার না হওয়া ছয়টি আসন হল ঢাকা‑২০, চট্টগ্রাম‑৮, নারায়ণগঞ্জ‑৪, সিরাজগঞ্জ‑৬, নরসিংদি‑২ এবং রাজবাড়ি‑২। এই এলাকাগুলোতে জোটের অন্যান্য সদস্যদের প্রার্থী এখনও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
আসনের সমন্বয় নিয়ে জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে, কারণ একাধিক প্রার্থী একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোটের বিভাজন ঘটতে পারে। জোটের মূল নীতি ছিল প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা, যাতে ভোটারদের পছন্দের বিকল্প কমে এবং জোটের জয় সম্ভাবনা বাড়ে।
NCP প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি উল্লেখ করেছেন, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে প্রতিটি আসনে একই প্রার্থী দায়িত্বে থাকবে এবং ছয়টি আসনের প্রার্থীরা শীঘ্রই প্রত্যাহার করবে। তিনি জোটের আসন-বণ্টন চুক্তির গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, যাতে ভোটের বিভাজন রোধ করা যায়।
দশটি পার্টি নিয়ে গঠিত এই জোটের আসন-বণ্টন চুক্তি মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য করা হয়। জোটের মধ্যে NCP, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং আমার বাংলাদেশ (AB) পার্টি সহ অন্যান্য দলগুলোকে নির্দিষ্ট আসনে প্রার্থী দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়, আর বাকি আসনে অন্যদের প্রার্থীকে সমর্থন করতে হয়।
এই চুক্তি অনুসারে NCP ২৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে প্রত্যাহার শেষ তারিখে খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য জোটের সাথী পার্টির কিছু প্রার্থী প্রত্যাহার না করে তাদের নাম বজায় রেখেছে। ফলে NCP যে আসনগুলোতে একক প্রার্থী রাখতে চেয়েছিল, সেগুলোতে এখনো দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে।
একজন NCP নেতা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, জানিয়েছেন যে ছয়টি আসনের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এই অনিশ্চয়তা জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় প্রক্রিয়ার ধীরগতি নির্দেশ করে।
নরসিংদি‑২ আসনে NCP প্রার্থী মোঃ গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) নাম নিবন্ধিত হয়েছে, তবে জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসেন এখনও তার নাম প্রত্যাহার করেননি। এই দ্বন্দ্বের ফলে ভোটারদের কাছে দুইটি বিকল্প থাকবে, যা জোটের জয় সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।
নরসিংদি জেলার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জেলা জামায়াত আমীর মাওলানা মোসেলুদ্দিন আমজাদের বাড়িতে গিয়ে প্রত্যাহার পত্রে স্বাক্ষর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে আমজাদের সমর্থকদের প্রতিবাদে তিনি স্বাক্ষর নিতে পারেননি, ফলে আমজাদের নাম এখনও বৈধভাবে তালিকায় রয়ে গেছে।
এই ঘটনাগুলো জোটের সমন্বয় ও আসন-বণ্টন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বিশাল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যদি প্রত্যাহার না হয়, তবে একই জোটের দুই প্রার্থী ভোট ভাগ করে জোটের মোট ভোট হারাতে পারে, যা বিরোধী দলগুলোর জন্য সুবিধা তৈরি করবে।
নির্বাচনের শেষ নিবন্ধন সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় জোটের নেতৃত্ব এখনো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জোটের একক প্রার্থী নীতি পুনরায় কার্যকর হবে এবং ভোটের বিভাজন কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ছয়টি আসনের ফলাফল জোটের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



