২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান ঘোষণা করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা দায়িত্বে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এবং এইবারও তা বজায় থাকবে।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচনী প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ভোটার তালিকা, ভোটার কেন্দ্রের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য বিরোধমূলক পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরেন, যা সামরিক ও পুলিশ সংস্থার সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তি হবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান সেনা সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নির্দেশ দেন, সকল সেনা ইউনিটকে নির্বাচনী সময়ে নাগরিকদের সঙ্গে শালীন ও সহানুভূতিশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য শেয়ারিং, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এবং সমন্বিত প্রশিক্ষণ সেশনগুলোকে একত্রে পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো ধরণের গ্যাপ না থাকে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং পুলিশ সুপারintendেন্ট মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। এই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন, পুলিশ-সেনা সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব ভাগ করে নেন।
তদুপরি, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারintendেন্টসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশগ্রহণ করেন। তারা পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ ভূ-প্রকৃতি, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন, যা সামগ্রিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সামরিক ও নাগরিক নিরাপত্তা সংস্থার এই সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান ভবিষ্যতে নির্বাচনী পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় সভা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান, যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায় এবং ভোটারদের নিরাপদে তাদের অধিকার ব্যবহার করতে সহায়তা করা যায়।



