বিডিসি-র বিদেশী উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার বিকেলে সম্প্রচারিত একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ অনুষ্ঠানে বললেন, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে কোনো ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই মন্তব্যের পূর্বে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের উচ্চ কমিশন ও চারটি অন্যান্য মিশনের কর্মীদের পরিবারকে প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছিল, যা নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, মিশনগুলো সম্পূর্ণ কর্মশক্তি বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে, তবে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা প্রত্যাহার করতে পারে। তৌহিদ হোসেনের মতে, তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মন্তব্যের ফলে কোনো নীতি পরিবর্তন হবে না; ভারত যদি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি স্বীকার করেন যে এই সিদ্ধান্তটি দু:খজনক, তবে তা পরিবর্তন করা তার ক্ষমতার বাইরে।
হোসেন আরও জোর দিয়ে বলেন, যদি ভারতীয় নাগরিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চিত হন, তবে তাদের প্রত্যাহার করার অধিকার আছে। তবে তিনি দু’দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানান, উল্লেখ করে যে আওয়ামী লীগ শাসন শেষ হওয়া এবং শেখ হাসিনার বিদায়ের পর থেকে সম্পর্কের স্তর প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
ইন্ডিয়ার সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদে উত্তেজনা দেখা দেয়ার পর, ঢাকা সরকার নিউ দিল্লি, আগরতলা ও কলকাতা তে কনসুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তৌহিদ হোসেন এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে, আরও সূক্ষ্ম এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করেন। তিনি দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে একটি সাধারণ অনুভূতি রয়েছে যে ভারতীয় নীতি দেশের সংবেদনশীলতা যথাযথভাবে বিবেচনা করে না। হোসেন এই বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যদিও কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া একদিনে সম্পন্ন হয় না; তা সময়ের সাথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কোনো কাজের কথা না বললেও, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছেও একই রকম ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করা হয়।
জাতীয় রাজনৈতিক দৃশ্যের কথা বললে, হোসেন জামাত-ই-ইসলামকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি থাকা একটি উন্মুক্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের বিজেপি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামাতের প্রভাবও বাড়তে পারে, যা দু’দেশের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে।
সারসংক্ষেপে, তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রমাণভিত্তিক ব্যর্থতা নেই, তবে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আরও সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মান প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কনসুলার সেবার পুনরায় চালু হওয়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের সুষ্ঠু পরিচালনা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হবে।



