বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সিলেটের জনপ্রিয় ‘দুলাভাই’ খালেদা জিয়া, মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর একটায় সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সমাবেশটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ভোটার সংযোগের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয় এবং মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের সংখ্যা কয়েক হাজারেরও বেশি অনুমান করা হচ্ছে। সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান, যিনি প্রায় পঁচিশ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ও তীব্র ভাষণ দিয়ে উপস্থিতদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তারেকের বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়া মঞ্চে উঠে তার নিজস্ব প্রায় অর্ধ ঘন্টার দীর্ঘ বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি পার্টির বর্তমান কৌশল ও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে কথা বলেন। বক্তৃতা শেষ হওয়ার মুহূর্তে, মাঠের পুরো ভিড় একসাথে ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ চিৎকারে গর্জে ওঠে, যা সমাবেশের পরিবেশকে তীব্র উত্তেজনায় পরিণত করে।
খালেদা জিয়া, যিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সিলেটের যুবকদের মধ্যে দুলাভাই নামে পরিচিত, তার ব্যক্তিগত পরিচয়কে আবারও জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। তিনি সম্প্রতি বিয়ে সম্পন্ন করার পর থেকে এই উপাধি আরও জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা তার সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করে এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের এই দিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। দুলাভাই শব্দটি স্থানীয় তরুণ-যুবকরা তার প্রতি স্নেহের সঙ্গে ব্যবহার করে, এবং এই সমাবেশে তার উপস্থিতি এই স্নেহকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। পার্টির কর্মীরা উল্লেখ করেছেন, দুলাভাইয়ের এই ব্যক্তিগত পরিচয় ভোটারদের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ গড়ে তোলার একটি কার্যকর উপায়।
আলিয়া মাদরাসা মাঠের মঞ্চের সামনের দিক থেকে স্লোগানটি ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুরো মাঠ জুড়ে শোনা যায়; প্রথমে মঞ্চের কাছের অংশে চিৎকার শোনা গেল, তারপর ধীরে ধীরে ভিড়ের মাঝখানে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠের শেষ কোণ পর্যন্ত পৌঁছায়। উপস্থিত তরুণ-যুবক ও বৃদ্ধরা একসাথে ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ চিৎকার করে, যা সমাবেশের উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং পার্টির সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন করেছে। এই স্লোগানটি প্রায় অর্ধ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পুনরাবৃত্তি হয়, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। সমাবেশের পর, অংশগ্রহণকারীরা মাঠের চারপাশে ঘুরে ঘুরে এই চিৎকারের রেকর্ডিং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে, যা আরও বেশি সমর্থককে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
এই চিৎকার কেবল আজকের সভায় সীমাবদ্ধ নয়; গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে সিলেটের বিভিন্ন বিএনপি সমাবেশে একই রকম স্লোগান শোনা যায়। বিভিন্ন এলাকায় ‘দুলাভাই আসছে, রাজপথ কাঁপছে’ শিরোনামের পোস্টার ও দেয়াল রচনা দেখা গেছে, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করছে এবং স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তার উপস্থিতি দৃঢ় করছে। বিশেষ করে সিলেটের গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় এই ধরনের স্লোগান ও চিত্রায়ন ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা এই স্লোগানকে দলের সংগঠনের শক্তি ও ভোটার সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেন, দুলাভাইয়ের ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান একসাথে মিলিয়ে ভোটারদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলবে। তারা আরও জানান, এই ধরনের স্লোগান পার্টির বার্তা প্রচারে সহজ ও সরাসরি পদ্ধতি, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশের পর, পার্টির স্থানীয় শাখা নেতারা আগামী সপ্তাহে সিলেটের অন্যান্য শহরে একই রকম জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যাতে দুলাভাইয়ের জনপ্রিয়তা আরও বিস্তৃত হয়।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিরোধী দলগুলো এই ধরনের ব্যক্তিগত স্লোগানকে ভোটারকে ব্যক্তিগত আকর্ষণে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছে এবং তর্ক করে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নীতি ও কর্মক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা উল্লেখ করে, দুলাভাইয়ের ব্যক্তিগত পরিচয়কে অতিরিক্ত জোর দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করা স্বল্পমেয়াদী কৌশল হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নীতি ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষয় করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, দুলাভাইয়ের এই জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বাড়াতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেন, স্লোগান ও চিত্রায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে এবং পার্টিকে নীতি ভিত্তিক প্রোগ্রাম বিকাশে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া,



