২২ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নমনীয় মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দাম কিছুটা কমে। একই দিনে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণের মূল্য ৪,৮২৪.১৮ ডলারে নেমে আসে, যা সেশনের শুরুর তুলনায় প্রায় এক শতাংশ কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে উত্থাপিত মন্তব্যগুলো পূর্বে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছিল। ঐ মন্তব্যের ফলে স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিকভাবে প্রথমবার ৪,৮০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে শীর্ষে পৌঁছায়।
আজকের স্পট মূল্যের পতন ০.৩ শতাংশের সামান্য হ্রাস হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সেশনের শুরুর সময় দাম প্রায় এক শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাবের ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
ইউনাইটেড স্টেটসের ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য গল্ড ফিউচারসও ০.২ শতাংশ কমে ৪,৮২৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এই সূচকগুলো দেখায় যে স্বর্ণের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকর্ষণ সাময়িকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের দাম মোট ১২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনও আকর্ষণীয় রিটার্নের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তবে সাম্প্রতিক হ্রাস বাজারের মনোভাবের পরিবর্তনকে প্রকাশ করে।
অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা উল্লেখ করেন, ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা ফিরে আসায় স্বর্ণের নিরাপদ আশ্রয় চাহিদা কমে এবং ডলারের সামান্য শক্তিশালী হওয়াও দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
হেরাউস প্রেশাস মেটালসের গ্লোবাল হেড অব ট্রেডিং হেনরিক মার্কসের মতে, স্বর্ণের সামগ্রিক দামের প্রবণতা এখনও ঊর্ধ্বমুখী, যদিও স্বল্পমেয়াদে কিছু সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। স্পট রুপার দাম ০.৫ শতাংশ বাড়ে এবং ৯৩.৭১ ডলারে স্থিত হয়। রেকর্ড উচ্চতা ২০ জানুয়ারিতে ৯৫.৮৭ ডলারে পৌঁছেছিল।
স্পট প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৪৮৪.৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ বাড়ে এবং ১,৮৬০.৫৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এই পরিবর্তনগুলো নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি সম্পদে পুনরায় আগ্রহী হচ্ছে, ফলে স্বর্ণের নিরাপদ-আশ্রয় ভূমিকা সাময়িকভাবে হ্রাস পেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের মূলধন সংরক্ষণ ক্ষমতা এখনও শক্তিশালী বলে বিবেচিত।
বাজারের দৃষ্টিতে, ডলার শক্তি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের দামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি স্বর্ণের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাব বাড়ে।
বিশ্লেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে বিনিয়োগকারীরা ডলারের গতি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। এই উপাদানগুলো স্বর্ণের দাম এবং অন্যান্য ধাতুর দামের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড মন্তব্যের পর স্বর্ণের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে, তবে বছরের মোট বৃদ্ধি এখনও ইতিবাচক। ঝুঁকি সম্পদে প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের নিরাপদ-আশ্রয় আকর্ষণ সাময়িকভাবে কমে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে।



