22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকেরালায় এক পুরুষের আত্মহত্যা সংক্রান্ত মামলায় নারী গ্রেফতার

কেরালায় এক পুরুষের আত্মহত্যা সংক্রান্ত মামলায় নারী গ্রেফতার

কেরালার কোঝিকোডে জেলা পুলিশ ৩৫ বছর বয়সী শিমজিথা মুস্তাফাকে আত্মহত্যা সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। শিমজিথা গত সপ্তাহে বাসে রেকর্ড করা একটি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ৪২ বছর বয়সী দীপক ইউ-কে তার স্তনে কনুই আঘাত করার অভিযোগ করেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ব্যবহারকারী দীপকের আচরণকে নিন্দা করে। দুই দিন পর, দীপক ইউ, যিনি টেক্সটাইল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, আত্মহত্যা করে। তার মৃত্যু ১৮ জানুয়ারি, জন্মদিনের পরের দিন ঘটেছে।

দীপকের পরিবার ও বন্ধুরা জানান, তিনি কখনোই এমন কোনো অপরাধ স্বীকার করেননি এবং সামাজিক মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে চালু হওয়া ‘ট্রায়াল’ তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিবার দাবি করে যে ভিডিওটি তার জীবনের শেষের দিকে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিমজিথা, যিনি স্থানীয় ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ দলের সঙ্গে যুক্ত একটি সামাজিক মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, তার ভিডিওকে সুনাম ও অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্য বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি, তিনি ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তৈরি করেছিলেন, এ কথা তিনি গ্রেফতারের আগে আরেকটি ভিডিওতে জানিয়েছিলেন।

দীপকের মা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন, ফলে শিমজিথার বিরুদ্ধে আত্মহত্যা সহায়তার অপরাধে অ-নির্ধারিত জামিনের ধারা প্রয়োগ করা হয়। বুধবার তাকে ১৪ দিনের জন্য বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।

কেরালার মানবাধিকার কমিশনও এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে। কমিশন কোঝিকোডে পুলিশের তদন্তের প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসারে, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হবে।

দীপকের আত্মহত্যা দেশের বিভিন্ন অংশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। পরিবার, বন্ধু এবং পুরুষ অধিকার সমর্থকগণ তার পক্ষে সাড়া দেন, দাবি করেন যে সামাজিক মিডিয়ার ত্বরিত বিচার তার জীবনের শেষ ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন বন্ধু বলছেন, দীপক ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও সহানুভূতিশীল মানুষ, যার কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নেই। তিনি টেক্সটাইল ব্যবসায় কাজ করতেন এবং কোঝিকোডে ফিরে যাচ্ছিলেন যখন এই ঘটনা ঘটেছিল।

পুলিশ বর্তমানে ভিডিওর মূল রেকর্ডিং, সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ারিং রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে। আত্মহত্যা সহায়তার অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে, শিমজিথার ভিডিও প্রকাশের পর দীপকের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্যও তদন্তের অংশ।

অধিকন্তু, মানবাধিকার কমিশনের তত্ত্বাবধানে, তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সাক্ষী ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। কমিশন ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।

এই মামলায় আদালতের পরবর্তী শোনানির সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইন মেনে চলতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মামলার ফলাফল কেরালার সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার, যৌন হয়রানি অভিযোগ এবং আত্মহত্যা সহায়তা সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত রায় দেশের জনমত ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments