অন্তর্বর্তী সরকার ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিক ছুটি ঘোষণা করেছে। এ ছুটির সঙ্গে সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবারের স্বাভাবিক সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হওয়ায়, মোট চার দিন একসাথে অবকাশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, শিল্পক্ষেত্রের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি প্রদান করা হয়েছে, ফলে তারা তিন দিন অবিরাম বিশ্রাম পাবে।
এই সিদ্ধান্তটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি বৈঠকের মূল আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। বৈঠকের আলোচনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মশক্তির অবকাশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের পর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ছুটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনটি পূর্বে ঘোষিত সাধারণ ছুটি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি অনুমোদিত হয়েছে।
প্রেস সচিবের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটি প্রদান করা হয়েছে যাতে তারা নির্বাচনের আগে ও পরে কাজের চাপ থেকে মুক্তি পায় এবং পরিবারিক দায়িত্ব পালন করতে পারে। ফলে, শিল্পকর্মীরা ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি তিন দিন ধারাবাহিকভাবে অবকাশ উপভোগ করতে পারবে। এই ব্যবস্থা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সাধারণত নির্বাচনের দিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাতে ভোটারগণ নির্বিঘ্নে ভোটদান করতে পারে এবং নির্বাচনী কর্মীরা নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই বছর নির্বাচনের পূর্বে এবং পরের দিনগুলোকে ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় দীর্ঘতর অবকাশ প্রদান করে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবারের স্বাভাবিক সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হলে, চার দিন ধারাবাহিক ছুটি নাগরিকদের জন্য বিশ্রাম ও পরিকল্পনা করার সুযোগ দেয়।
অধিকন্তু, শ্রমিক ও শিল্পকর্মীদের জন্য নির্ধারিত ছুটি দেশের উৎপাদনশীলতা ও শ্রমিক কল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রের ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনগুলো পূর্বে এই ধরনের ছুটির দাবি করে আসছে, যাতে তারা নির্বাচনের সময় কাজের অতিরিক্ত চাপ থেকে রেহাই পায়। সরকার এই চাহিদা মেটাতে ছুটি প্রদান করে, যা শ্রমিকদের মনোবল বাড়াবে এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারাবাহিক ছুটির ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত ছুটির দিনগুলোকে ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। চার দিন ধারাবাহিক ছুটি ভোটারদের জন্য ভোটদানের প্রস্তুতি, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করার সময় বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
এই ছুটির ঘোষণা নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে, পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক ছুটির মাধ্যমে ভোটারগণ ভোটের আগে ও পরে বিশ্রাম নিতে পারবে, যা ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে, সরকারী বিভাগগুলো ছুটির সময়সূচি অনুযায়ী সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও এই ছুটির সময়সূচি মেনে চলবে, যাতে দেশের সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
সারসংক্ষেপে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ও পরের দিনগুলোকে ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের জন্য দীর্ঘতর অবকাশ নিশ্চিত করেছে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং শ্রমিক কল্যাণের দিক থেকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার এই ছুটির মাধ্যমে দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়।



