বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী আজ ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। বিকাল ৩টায় মিরপুর আদর্শ হাই স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত র্যালিতে কোরআন তিলাওয়াতের সঙ্গে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। র্যালির মূল উদ্দেশ্য ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া।
র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন, যিনি একই সময়ে ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থীও। তার ভাষণে পার্টির নির্বাচনী লক্ষ্য, নীতি ও জনগণের সেবা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। শফিকুর রহমানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও মেট্রোপলিটন স্তরের অন্যান্য নেতারাও সমাবেশে অংশ নেন।
র্যালিতে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশকারী নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন নেতা তাদের মতামত ও সমর্থন জানিয়ে বক্তৃতা দেন। এই উপস্থিতি জোটের ঐক্য ও সমন্বয়কে প্রকাশ করে।
র্যালিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মেট্রোপলিটন স্তরের নেতারা, সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকগণ একত্রিত হয়েছেন। তারা পার্টির ঐতিহাসিক অর্জন, ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন। সমাবেশে উপস্থিত ভিড়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল, যা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে।
র্যালির সূচনায় কোরআন তিলাওয়াতের পর, সাইফ খান নামের এক তরুণ বক্তা মঞ্চে উঠে কথা বলেন। সাইফ খান জুলাই মাসে শহীদ আবদুল হান্নানের পুত্র, যিনি দেশের স্বাধিনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তার বক্তব্যে শহীদের ত্যাগের স্মরণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
শফিকুর রহমানের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৫ নির্বাচনে পার্টির লক্ষ্য জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এই প্রচারাভিযানকে তিনি পার্টির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি বাস্তবায়নের একটি মঞ্চ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
র্যালির পরবর্তী অংশে জামায়াতের অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতারা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে, সরকারের নীতিগুলোর সমালোচনা ও সমর্থন উভয়ই প্রকাশ করেন। তবে মূল বার্তা ছিল পার্টির বিকল্প নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।
এই র্যালি নির্বাচনী সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত হয়েছে, যা পার্টির সংগঠিত প্রচার কার্যক্রমের একটি অংশ। র্যালির মাধ্যমে পার্টি তার সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে চায় এবং ভোটারদের কাছে তার প্রোগ্রাম তুলে ধরতে চায়।
র্যালিতে উপস্থিত সমর্থকগণ পার্টির স্লোগান গাইতে এবং পতাকা তুলে উল্লাস করেন। এই উল্লাসের মাধ্যমে পার্টির জনমত গঠন ও সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়। সমাবেশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও উচ্ছ্বাসপূর্ণ ছিল।
প্রতিপক্ষ দলগুলো র্যালি সম্পর্কে মন্তব্য করে, তারা বলেছে যে নির্বাচনী প্রচার স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে চলা উচিত। তবে তারা জামায়াতের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
র্যালির শেষে শফিকুর রহমান আবারও ভোটারদের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি ভোটারদেরকে আহ্বান করেন, যেন তারা নির্বাচনের দিন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাবার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই র্যালি জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলকে স্পষ্ট করে, যা ভিত্তি শক্তিশালী করা, নতুন ভোটার গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করা এবং পার্টির নীতি-দর্শনকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। র্যালির মাধ্যমে পার্টি তার সংগঠিত কাঠামো ও নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায়।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে জামায়াতের আরও র্যালি ও সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা নির্বাচনী প্রচারকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে। পার্টি তার নির্বাচনী ম্যানিফেস্ট প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভোটারদের কাছে স্পষ্ট নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন করা যায়।
সারসংক্ষেপে, জামায়াত-ই-ইসলামির ঢাকা-১৫ র্যালি পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পার্টি তার লক্ষ্য, নীতি ও সমর্থনকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। এই প্রচারাভিযান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে, এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



