মোরাদাবাদ, উত্তর প্রদেশে দুই তরুণের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ধর্মভিন্ন প্রেমের কারণে তরুণীর তিন ভাই তাদের হাতে গাঁট বাঁধা শিকারের গায়ে গুলি করে হত্যা করে এবং মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে রাখে। ২৭ বছর বয়সী মুসলিম যুবক আরমান, যিনি কয়েক মাস আগে মোরাদাবাদে বসবাস শুরু করে এবং পূর্বে সৌদি আরবে কাজ করতেন, এবং ২২ বছর বয়সী হিন্দু তরুণী কাজল, যারা একে অপরের সঙ্গে প্রেমে পড়ে, তাদের পরিবার এই সম্পর্ককে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। তিন ভাই, কাজলের বড় ভাইসহ, সম্পর্ক শেষ করার হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত শারীরিক সহিংসতায় রূপ নেয়। ঘটনাটি ঘটার প্রায় তিন দিন আগে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যায়, আরমানের বাবা হানিফ স্থানীয় থানায় নিখোঁজের রিপোর্ট করেন, যা তদন্তের সূচনা করে।
পুলিশের জানানো মতে, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, আরমান ও কাজলের হাত-পা গাঁট বাঁধে এবং গুলি করে হত্যা করে, তারপর মৃতদেহ দুটোকে মাটিতে পুঁতে রাখে। সন্ধ্যাবেলা মাটি খুঁড়ে দুজনের দেহ উদ্ধার করা হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের অবস্থান ও অস্ত্রের প্রমাণ অনুসারে তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, কাজলের তিন ভাইই অপরাধের মূল দায়ী।
মোরাদাবাদের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সৎপাল আন্তিলের মতে, সন্দেহভাজনদের স্বীকারোক্তি ও শারীরিক প্রমাণের ভিত্তিতে মৃতদেহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। কাজলের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে দুইজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তৃতীয়কে আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যাতে ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ে না এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
আরমানের বোন ঘটনাস্থলে জানিয়েছেন যে, পরিবার আরমান ও কাজলের সম্পর্ক সম্পর্কে কিছুই জানত না। তিনি উল্লেখ করেন, আরমান চার বছর সৌদি আরবে কাজ করেছেন এবং তিন মাস আগে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তার মতে, তার ভাইবোনরা কোনোভাবে এই প্রেমের খবর পায়নি এবং তারা দুজনের মৃত্যুর শক সহ্য করতে পারছে না।
মোরাদাবাদে এই ধরনের ধর্মভিত্তিক পারিবারিক সংঘাতের পূর্বে কিছু উদাহরণ দেখা গেছে, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এখন থেকে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা অবলম্বন করবে। সম্প্রতি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে, পুলিশ বিশেষ দল গঠন করে এলাকায় ঘনিষ্ঠ নজরদারি চালু করেছে। এছাড়া, স্থানীয় সমাজের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং মৃতদেহের পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে, তদন্তের সব ধাপই স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভবিষ্যতে, ধর্মীয় পার্থক্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বাড়ানো হবে, এবং সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। এই মামলাটি ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারিবারিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা আইনগত ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ন।



