লিভারপুলের বাম-ব্যাক কোস্টাস ত্সিমিকাস ইতিমধ্যে রোমে ঋণাভিত্তিক চুক্তিতে যুক্ত, তবে নটিংহাম ফরেস্টের আগ্রহ এখনও অব্যাহত। মাইলস কেরকেজের আগমন তাকে অ্যান্ডি রবার্টসনের পেছনে ঠেলে দিয়েছে, ফলে ফরেস্টের নজর টসিমিকাসের দিকে ফিরে এসেছে।
রোমা ক্লাব টসিমিকাসের ঋণকাল আগেভাগে শেষ করতে ইচ্ছুক, শর্ত হল তারা তার পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড় খুঁজে পাবে। গ্যাসপারিনি পরিচালিত সিজনটিতে টসিমিকাস মাত্র চারটি সিরি এ ম্যাচে মাঠে নামেছেন, কারণ তার শৈলী ক্লাবের উইং-ব্যাক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইংলিশ সেকেন্ড ডিভিশনের সানডারল্যান্ডের নোয়া সাদিকির প্রতি তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২১ বছর বয়সী ডি.আর. কংগো মিডফিল্ডারটি ইউনিয়ন সাঁ-গিলোয়েজ থেকে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে যোগদানের পর তার মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। সানডারল্যান্ডের কোচ রেজিস লে ব্রিসের অধীনে তিনি এফকন ছাড়া সব প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে শুরু করেছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও সাদিকিকে নজরে রেখেছে এবং ম্যানুয়েল উগার্টের সঙ্গে খেলোয়াড়-নগদ বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেছিল, তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত আগ্রহ প্রকাশিত হয়নি। ফলে সানডারল্যান্ডের কাছে সাদিকি বিক্রির কোনো তাড়াহুড়ো নেই এবং তিনি দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে রয়ে গেছেন।
লিভারপুলের বর্তমান কোচ উনায় এমেরি তার আঘাতপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের তালিকায় রুবেন লফটাস-চেকের মতো প্রোফাইলের খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা দেখছেন। বিশেষ করে বৌবাকার কামারা, যিনি এই মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলায় উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, এফএ কাপের স্পার্সের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
কামারার আঘাতের তীব্রতা নিয়ে ক্লাব উদ্বিগ্ন যে তিনি পুরো সিজন শেষ না করতে পারেন। লিভারপুল বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় আর্সেনালের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে আছে; তাই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বিকল্প খোঁজা কোচের জন্য অগ্রাধিকার।
সেলহার্স্ট পার্কে ক্রিস্টাল প্যালেসের মিডফিল্ডার আদাম হোয়াটনের নামেও বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম এবং নিউক্যাসল সহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দল তার দিকে নজর দিয়েছে।
লিভারপুলের স্কাউটিং টিমও হোয়াটনের দিকে নজর দিয়েছে এবং ক্লাবের সঙ্গে আলোচনার সূত্র পাওয়া গেছে। প্যালেসের পক্ষ থেকে বিক্রির জন্য মৌসুমের শেষে দরজা খোলা থাকবে, এবং প্রাথমিক মূল্য ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড নির্ধারিত হয়েছে।
নাপোলি ক্লাবেরও হোয়াটনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে, যদিও বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই সময়ে প্যালেসের বিক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পেতে পারে, কারণ বহু বড় ক্লাবের চাহিদা একসাথে বাড়ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো এই গ্রীষ্মে তাদের দলে নতুন প্রতিভা যুক্ত করার জন্য সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। লিভারপুলের ক্ষেত্রে টসিমিকাসের ঋণকাল শেষ করার সম্ভাবনা, সাদিকির মূল্যবৃদ্ধি এবং কামারার আঘাতের প্রভাব দলীয় কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে, ক্রিস্টাল প্যালেসের হোয়াটনের সম্ভাব্য বিক্রয় লিভারপুলের মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনা এবং দলীয় গঠন উভয়ই এই গুজবের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।
এই গুজবগুলো এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় যে স্থানান্তর বাজারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীঘ্রই ফুটবলের জগতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।



