দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ মন্ত্রী ফিরোজ কাচালিয়া বুধবার সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন যে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এখনো মারাত্মক গ্যাংবন্দি পরাজিত করতে সক্ষম নয়। এই স্বীকারোক্তি দেশের অপরাধ সংকটের গভীরতা প্রকাশ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যা হারযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে গ্যাং হিংসা ও ডাকাতি মিলিয়ে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্যাংবন্দি ও চুরি-ধরা অপরাধের সমন্বয় দেশের মোট হত্যার বড় অংশ গঠন করে।
মন্ত্রীর মতে, গ্যাং হিংসা বিশেষত ইস্টার্ন ক্যাপ এবং ওয়েস্টার্ন ক্যাপ প্রদেশে জটিলতায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পুলিশ পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ফলে নতুন কৌশল প্রয়োজন।
কাচালিয়া স্পষ্ট করে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাংবন্দি সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা আমাদের সক্ষমতার বাইরে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই মুহূর্তে গ্যাংবন্দি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ ও পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বহু মানুষ ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক রাখে, তবে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশি। অবৈধ গুলিবিদ্ধের প্রবাহ গ্যাংবন্দির কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৬৩ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে। এই সংখ্যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিককে তুলে ধরে।
মন্ত্রীর ইস্টার্ন ক্যাপের নেলসন ম্যান্ডেলা বে পরিদর্শনের সময় তিনি গ্যাংবন্দি দ্বারা সৃষ্ট “হত্যার ঝড়” উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই প্রদেশে গ্যাংবন্দি ক্রমাগত রক্তপাত বাড়িয়ে তুলছে।
পরিদর্শনের সময় গ্যাংবন্দি, জবরদস্তি র্যাকেট, এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের সমস্যার ওপর আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের অপরাধ দেশের বিভিন্ন অংশে গভীরভাবে প্রবেশ করেছে।
গ্যাংবন্দি ও তাদের সমর্থনকারী কার্টেলগুলো বিশাল সম্পদ ও প্রভাবের অধিকারী, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করে। মন্ত্রী এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০১৯ সালে গ্যাংবন্দি বিরোধী একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হলেও, মন্ত্রী জানান, গ্যাংবন্দি এখনও যুদ্ধ জয়ী হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ইউনিটগুলো সময়ে সময়ে গঠন করা হয়, যা সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়।
গ্যাংবন্দি মোকাবেলায় অস্থায়ী ইউনিট গঠনকে “পয়েন্ট-স্কোরিং” পদ্ধতি হিসেবে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন।
পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে গ্যাংবন্দি সমস্যার মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, এটাই মন্ত্রীর বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সমস্যার বিস্তার থামানো কঠিন।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের আগে নেলসন ম্যান্ডেলা বে এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের তরঙ্গ ঘটেছিল, যা গ্যাংবন্দি হিংসার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনার পর মন্ত্রী এলাকায় সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।



