যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করতে চলা ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তীব্রতর হওয়ায় ইউরোপে নতুন বিতর্ক উন্মোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড‑সংক্রান্ত মন্তব্যের ফলে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বয়কটের কথা ভাবছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, আর ডেনমার্ক ন্যাটো‑সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী মিত্র। তাই গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বে কোনো হুমকি উভয় পক্ষের কূটনৈতিক স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে।
ফ্রান্সে এই বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন বামপন্থী আইনপ্রণেতা এরিক কোকুয়েরেল। তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও জাতিসংঘের কার্যকারিতা ক্ষুণ্নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ফ্রান্সের সরকারকে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে এখনো আয়োজন মেক্সিকো ও কানাডায় স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি কোকুয়েরেলের প্রস্তাবের পর স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলছেন, বর্তমান সময়ে সরকার কোনো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের বয়কটের কথা ভাবছে না এবং ক্রীড়াকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। ফেরারির মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ গ্লোবাল ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, তাই তা রাজনৈতিক বিতর্কের শিকার হওয়া উচিত নয়।
ইউরোপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ স্কটল্যান্ডও এই আলোচনায় উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৮ সালের পর থেকে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি, তবে ২০২৬ আয়োজনের পর আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিন বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করে বলেছেন, স্কটল্যান্ড ১৯৯৮ের পর থেকে মূলত বয়কটের পথে চলেছে, তবে এখন তারা আবার অংশগ্রহণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ডেনমার্কের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন ন্যাটো‑সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, তাই ইউরোপের বেশ কয়েকটি সরকার ট্রাম্পের মন্তব্যকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও এখনো কোনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে ফ্রান্সের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও ব্যক্তিরা এই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে।
বিশ্বকাপের আয়োজনকারী দেশগুলো ইতিমধ্যে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা চালু করেছে, এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা এই ইভেন্টকে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ইউরোপে বয়কটের সম্ভাবনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা টুর্নামেন্টের আর্থিক ও রাজনৈতিক দিক উভয়ই প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে স্পনসরশিপ, টেলিভিশন অধিকার ও ভ্রমণ শিল্পের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের সরকারগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা ও ক্রীড়া নীতি সমন্বয় করে একটি সুষম নীতি নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ড‑সংক্রান্ত মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগ কমাতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে এই বিতর্কের ফলাফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক আলোচনার গতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর।
যদি বয়কটের আলোচনা আরও তীব্র হয়, তবে ফিফা ও আয়োজনকারী দেশগুলোকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হতে পারে, যার মধ্যে টুর্নামেন্টের স্থান পরিবর্তন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা অন্তর্ভুক্ত। তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, এবং অধিকাংশ ক্রীড়া কর্মকর্তা ইভেন্টকে ক্রীড়া দৃষ্টিকোণ থেকে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রয়েছেন।



