ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রোটারডাম (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণে ১ ফেব্রুয়ারি ‘Complaint No. 713317’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কাজটি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ইয়াসার শাফিয়ের নামের অধীনে প্রকাশিত হয়েছে, যিনি পূর্বে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও গহনা ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন কায়রোর ৬০-এর দশকে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত দম্পতি মাগদি ও স্যামা। তাদের বাড়ির ফ্রিজ হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা ব্যাহত হয়। ফ্রিজের মেরামতের জন্য তারা যে সেবা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তা দুর্নীতিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত, যার ফলে একধরনের কায়ফা-সদৃশ ব্যুরোক্রেসি উন্মোচিত হয়।
ফ্রিজের ক্ষুদ্র সমস্যাটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সংকট, সরকারি সেবা ব্যবস্থার অদক্ষতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় একত্রে অবসরদাতা দম্পতির জীবনে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে দম্পতি তাদের গর্ব ও মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্দেশকের পূর্বের স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজগুলোর মধ্যে ‘দ্য ড্রিম অফ এ সিন’, ‘ইন্টেন্স প্র্যাকটিস টু ইমপ্রুভ পারফরম্যান্স’ এবং ‘দ্য ম্যান হু সওয়েল্ড দ্য রেডিও’ উল্লেখযোগ্য। গহনা ডিজাইনার হিসেবে তার পেশাগত পটভূমি চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও সূক্ষ্ম বিবরণে প্রভাব ফেলেছে বলে অনুমান করা যায়। ‘Complaint No. 713317’ তার সৃজনশীল যাত্রার নতুন মাইলফলক, যেখানে তিনি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মিশ্রণকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করেছেন মিশরের পরিচিত অভিনেতা মাহমুদ হেমিদা ও শেরিন, পাশাপাশি হানা শিহা ও মোহাম্মদ রদওয়ান। এই কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। অভিনেতারা দম্পতির দৈনন্দিন সংগ্রাম ও আবেগকে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা দর্শকের সঙ্গে সংবেদনশীল সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়ক।
প্রযোজনা কাজটি রেড স্টার ফিল্মস ও মিসর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্মসের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে, আর বিক্রয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অরিয়েন্ট ফিল্মসের হাতে। এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করেছে এবং রোটারডাম ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রোটারডামের ‘ব্রাইট ফিউচার’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়, যা উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে সমর্থন ও প্রচার করার উদ্দেশ্যে তৈরি। এই প্রোগ্রামটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা সমৃদ্ধ কাজকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে, এবং ‘Complaint No. 713317’ এই কাঠামোর মধ্যে বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে।
নির্দেশকের বিবৃতি অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকভাবে গৃহীত সমস্যাগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বা না মানিয়ে নেওয়ার দিকটি অনুসন্ধান করে। তিনি ফোন কলের অবিরাম স্রোত, প্রতিশ্রুতির ফাঁক, এবং সেবার অপ্রতুলতা কীভাবে মানুষের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে তা তুলে ধরেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি কেবল একটি ফ্রিজের মেরামত নয়, বরং সামাজিক কাঠামোর অদৃশ্য ত্রুটিগুলোর প্রকাশ হিসেবে কাজ করে।
মিশরের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এই কাজটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত দম্পতির ব্যক্তিগত সংগ্রামকে বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে, চলচ্চিত্রটি স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিশরের সমসাময়িক সিনেমার গুণগত মান ও বৈশ্বিক দৃশ্যপটে অবস্থানকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রদর্শনী শেষে দর্শক ও সমালোচকরা চলচ্চিত্রের বাস্তববাদী বর্ণনা ও সূক্ষ্ম চরিত্রায়নের প্রশংসা করেছেন। ‘Complaint No. 713317’ কায়রোর নগর জীবনের অদৃশ্য সংগ্রামকে উন্মোচন করে, এবং একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য একটি চিন্তাশীল ও আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা প্রত্যাশা করা যায়।



