স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ (TIB) আজ ধানমন্ডি অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এই বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট ১,৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জনের সম্পদ এক কোটি টাকার উপরে, অর্থাৎ তারা মিলিয়নিয়ার হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ সব প্রার্থী তাদের স্ব-প্রকাশিত সম্পদ বিবরণীতে চলমান ও অচল সম্পদের মোট মূল্য এক কোটি টাকার বেশি দেখিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৯১ মিলিয়নিয়ার প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের সম্পদ এক হাজার কোটি টাকার বেশি, অর্থাৎ তারা বিলিয়নিয়ার হিসেবে চিহ্নিত। TIB এই তথ্যগুলো প্রার্থীদের জমা করা স্ব-প্রকাশিত সম্পদ তালিকা (affidavit) বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছে।
প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতার দিক থেকে দেখা যায়, ২৫.৫ শতাংশ প্রার্থীই কোনো না কোনো ঋণ বা দায়ের মুখোমুখি। মোট দায়ের পরিমাণ ১৮,৮৬৮.৫২ কোটি টাকার কাছাকাছি, যার মধ্যে ব্যাংক ঋণ ১৭,৪৭১.৬৭ কোটি টাকার বেশি। যদিও গত পাঁচটি নির্বাচনে দায়বদ্ধ প্রার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন, তবে মোট ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, বর্তমান নির্বাচনে ৫৩০ প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ, বিভিন্ন মামলায় জড়িত। পূর্ববর্তী নির্বাচনে একই সময়ে ৭৪০ প্রার্থী, অর্থাৎ ৩১.৬৪ শতাংশ, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। এই তুলনা দেখায়, যদিও মামলার সংখ্যা কমে এসেছে, তবু প্রার্থীদের আইনি ঝুঁকি এখনও উল্লেখযোগ্য।
TIB এর বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়, প্রার্থীদের সম্পদ ও দায়ের কাঠামো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চ সম্পদসম্পন্ন প্রার্থীর সংখ্যা এবং বৃহৎ ঋণ পরিমাণের সমন্বয় ভোটারদের জন্য আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
অধিকন্তু, মামলায় জড়িত প্রার্থীর শতাংশের হ্রাস সত্ত্বেও, এখনও প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রার্থী আইনি সমস্যার সম্মুখীন, যা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় তাদের কার্যক্রম ও প্রচারাভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই তথ্যগুলো নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আর্থিক দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে। বিশেষ করে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীর সম্পদ, ঋণ ও আইনি অবস্থার স্পষ্ট তথ্য প্রদান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
TIB এর এই প্রকাশনা নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা মূল্যায়নে সহায়তা করবে।



