মার্চের শেষ সপ্তাহে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা রুশ সম্পদ থেকে এক বিলিয়ন ডলার দান করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই অর্থ ট্রাম্পের প্রস্তাবিত “শান্তি পরিষদ”ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের পূর্বে প্রদান করা হবে। পুতিনের বক্তব্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং তিনি উল্লেখ করেন, এই তহবিল গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের যুদ্ধবিরতি তদারকি কাজে ব্যবহার করা হবে।
পুতিন জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাশিয়া সবসময় সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।
তবে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই আমন্ত্রণের নথিপত্রগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুতিন উল্লেখ করেন, কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শের পর রাশিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দানের শর্তাবলী ও ব্যবহার স্পষ্ট করা যায়।
পুতিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্যে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে, যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ থাকা রাশিয়ার বাকি সম্পদকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধারণা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আর্থিক ও কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানও পুতিনের বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কী ঘটছে তা রাশিয়ার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি ১৯১৭ সালে ডেনমার্কের ভার্জিন আইল্যান্ডসের বিক্রয় এবং ১৮৬৭ সালে আলাস্কার বিক্রয় উল্লেখ করেন, যেখানে রাশিয়া মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারে আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্রি করেছিল।
পুতিনের এই মন্তব্যগুলো রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক নীতি ও কূটনৈতিক স্বার্থের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তিনি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুকতা জোর দিয়ে বলেন। একই সঙ্গে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্যোগে উদাসীনতা প্রকাশ করে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা নির্দেশ করে।
শান্তি পরিষদে রাশিয়ার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। তবে রাশিয়ার নথিপত্র পর্যালোচনা ও কৌশলগত অংশীদারদের পরামর্শের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে।
এই সময়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জব্দকৃত সম্পদের ব্যবহার। পুতিনের মতে, এই সম্পদগুলো কেবল গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তদারকি নয়, বরং ভবিষ্যতে ইউক্রেনের পুনর্গঠনেও সহায়তা করতে পারে। তাই, দানের শর্তাবলী ও তহবিলের বণ্টন নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
পুতিনের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি রাশিয়ার এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও প্রভাবের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। রাশিয়া যদি সত্যিই এই তহবিল গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের শান্তি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে, ইউক্রেনের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের জব্দকৃত রুশ সম্পদের ব্যবহার রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পুতিনের এক বিলিয়ন ডলার দান ঘোষণাটি ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে রাশিয়ার অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দানটি জব্দকৃত রুশ সম্পদ থেকে হবে এবং গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তদারকি, ইউক্রেনের পুনর্গঠন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে, কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এই পদক্ষেপটি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।



