চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা, জুট মিল এলাকার মিদ্যাপাড়া গলিতে গত বুধবার রাতের দিকে একটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তিনজন অপরাধী লাঠি ব্যবহার করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালককে মারধর করে গলিতে ফেলে দেন, পরে গুলিয়ে হত্যা করা হয়। শিকারের নাম খোরশেদ আলম, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত অটোরিকশা চালক।
শিকারের উপর ধারাবাহিকভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত হানা হয়, ফলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। শিকারের শ্বাস-প্রশ্বাস স্থবির না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণকারীরা তাকে পেটাতে থাকেন। গলির পাশে উপস্থিত কয়েকজন মানুষ ঘটনাটি দেখেছেন, তবে কেউই হস্তক্ষেপ করেননি বা শিকারের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, শিকারের দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাতের মধ্যেই নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক শিকারের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। শিকারের পরিবার শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি (অফিসার ইন চার্জ) জানান, শিকার ও সন্দেহভাজনদের মধ্যে পূর্বে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতা রেকর্ড করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দুজনের মধ্যে মুখের গন্ধ নিয়ে তর্কের সূচনা হয়, যা পরে হিংসায় রূপ নেয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, তিনজন আক্রমণকারী লাঠি ব্যবহার করে শিকারের গলায় আঘাত করেন এবং পরে গুলির মাধ্যমে তাকে শেষ করে দেন। গুলির ধরন ও গুলি করার পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলি-চিহ্নের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্তদের নাম ও ঠিকানা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে ওসি উল্লেখ করেছেন, শিকারের পরিবার মামলার আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শিকারের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চাচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে থানা জুড়ে ঘটিত একটি সন্ত্রাসী হামলার উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার বায়েজিদ বোস্তামী থানার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি অভিযানে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং তিনজন সহকর্মী আহত হন। উক্ত হামলা ও বর্তমান হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি সংযোগ না থাকলেও, থানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, লাঠি ও গুলির রসিদ সংগ্রহ, এবং গ্যাংস্টারদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ যাচাই করছে। শিকারের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, লাঠি মারার মাধ্যমে শারীরিক আঘাত এবং গুলিয়ে হত্যা উভয়ই গৃহীত ফৌজদারি ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শুনানি শিকারের পরিবারের অনুরোধে দ্রুততর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, কোনো ধরনের হিংসা বা অপরাধের সাক্ষী হলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এছাড়া, রাস্তায় ঘটিত হিংসা প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহায়তা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সমাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি যথাসাধ্য তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।



