উগান্ডার জাতীয় নির্বাচন সপ্তাহে সরকার ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যা রাজধানী কাম্পালার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বিশালভাবে প্রভাবিত করে। শাটডাউনের সময়কাল নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকে দু’দিন পরে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, এবং সরকার এটিকে শান্তি রক্ষা, জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংবেদনশীল সময়ে যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধের জন্য প্রয়োজনীয় বলে জানায়।
ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল মোবাইল মানি এজেন্ট মিরেম্বে ট্রেসি জানান, ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তার সব উত্তোলন সেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং কমিশন ভিত্তিক আয় শূন্যে নেমে আসে। তিনি সাধারণত এক সপ্তাহে প্রায় ৪৫০,০০০ শিলিং (প্রায় ৯৬ পাউন্ড) উপার্জন করতেন, যা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হতো। শাটডাউন চলাকালে তিনি কেবল প্রিপেইড এয়ারটাইম বিক্রি করতে পারতেন, যার ওপর কোনো কমিশন না থাকায় আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অনলাইন ব্যবসা, বিশেষ করে যেগুলি মোবাইল মানি লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল, শাটডাউনের ফলে কার্যক্রমে বাধা পায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নগদ লেনদেনে রূপান্তরিত হয়, তবে তা সীমিত পরিসরে সম্ভব হয়। এই সময়ে গ্রাহক ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগের মূল মাধ্যম ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় লেনদেনের গতি ধীর হয়ে যায় এবং আয় হ্রাস পায়।
কাম্পালার বিখ্যাত বডা বডা (মোটরসাইকেল ট্যাক্সি) সেবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তাদের সার্ভার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অনেক চালক রাস্তায় বের হতে পারে না এবং যাত্রীদের জন্য সেবা প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এই সেবার ওপর নির্ভরশীল বহু ছোট ব্যবসা, যেমন রাইড-হেলিং অ্যাপের মাধ্যমে আয় করা চালক ও রেস্টুরেন্ট, একই সময়ে আয়হীন হয়ে পড়ে।
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহক পৌঁছানো ঐতিহ্যবাহী পোশাক বিক্রেতা নামুকওয়ায়া অলিভিয়া জানান, শাটডাউনের সময় তিনি কোনো অর্ডার গ্রহণ করতে পারেননি। তার গ্রাহকরা পণ্যের ছবি দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু ছবি পাঠানো ও অর্ডার গ্রহণের সুবিধা না থাকায় বিক্রয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তার আয়েও শূন্যে নেমে আসে।
বিপক্ষের দল শাটডাউনকে ভোট জালিয়াতি ঢাকতে এবং তাদের কর্মীদের ফলাফল শেয়ার করা থেকে রোধের কৌশল বলে অভিযুক্ত করে। তারা যুক্তি দেয়, ইন্টারনেট বন্ধের ফলে পর্যবেক্ষক ও মিডিয়া স্বাধীনভাবে ফলাফল যাচাই করতে পারবে না, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুন্ন করে।
অন্যদিকে, উগান্ডার যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ শাটডাউনকে জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে। তারা উল্লেখ করে, সংবেদনশীল সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে ইন্টারনেট বন্ধ করা একমাত্র কার্যকর উপায়।
ইন্টারনেট বন্ধের ফলে নগদ লেনদেন, মোবাইল মানি, রাইড-হেলিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংসহ আধুনিক জীবনের বেশিরভাগ দিক স্থবির হয়ে যায়। শহরের মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা অনুভব করে, এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি দ্রুত বাড়তে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের শাটডাউন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং সরকার ও বিরোধীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। যদি শাটডাউনকে ভোট জালিয়াতি ঢাকতে ব্যবহৃত বলে ব্যাপকভাবে ধরা পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও নাগরিক সমাজের চাপ বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, উগান্ডার সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, সাধারণ মানুষের জীবনের সব দিককে প্রভাবিত করেছে। শাটডাউন শেষ হওয়ার পরেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাবে, এবং এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



