কুশটিয়া-৩ আসন থেকে জামায়াত‑ইসলামির প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি জশোর জেলার কৃষক দল সমিতির কনভেনিং কমিটির সদস্য মেহদি হাসান জিল্লু, খারকি গ্রামবাসী, জশোর অতিরিক্ত প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলামের আদালতে গতকাল দাখিল করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম অভিযোগটি গ্রহণ করে জশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন।
পিবিআই জশোরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট কামরুজ্জামান তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হয়ে আদালতে যথাসময়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
মামলার বাদীর আইনজীবী এডভোকেট এমএ গফুরও একই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং আদালতে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, হামজা ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে একটি ধর্মীয় সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকে সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য করেন। কোকে হলেন খালেদা জিয়ার মৃত সন্তান এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন তারারিক রহমানের ভাই।
বাদী দাবি করেন, মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন মন্তব্য কোকের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে এবং জিয়া পরিবারের সম্মান হানি করেছে।
অধিকন্তু, বাদী বলেন যে এই ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে এবং সামাজিক সংহতি ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলায় উল্লেখিত মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবির পরিমাণ পাঁচ বিলিয়ন টাকা, যা বাদীর মতে মন্তব্যের গুরুতরতা ও প্রভাবের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী মানহানি অপরাধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকতে পারে; তবে সুনির্দিষ্ট শাস্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, হামজা জামায়াত‑ইসলামির কুশটিয়া-৩ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত, এবং এই মামলা তার প্রচারাভিযানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিপক্ষের দলগুলো এই মামলাকে জামায়াতের নৈতিকতা ও নির্বাচনী যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই বিষয়টি তাদের প্রচার কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এ পর্যন্ত হামজা বা জামায়াত‑ইসলামি পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি; তবে ভবিষ্যতে তারা মামলাটির আইনি দিক থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে পিবিআই তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপনের পর ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটির চূড়ান্ত রায় দেবেন। রায়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ আদায় বা শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলার ফলাফল কুশটিয়া-৩ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ভোটারদের ধারণা গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী সংবেদনশীলতা সম্পন্ন এলাকায়।
সারসংক্ষেপে, জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবং এই বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



