বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় লীলা ভাঁসালি ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেডে ভারতীয় সিনেমার ১১৩ বছরের ইতিহাসের সর্বোত্তম দৃশ্যগুলো নিয়ে গঠিত একটি মণ্টাজ উপস্থাপন করবেন। এই কাজটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধে করা হচ্ছে এবং দেশের চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের গৌরবকে জাতীয় উত্সবে তুলে ধরবে।
ভাঁসালি বর্তমানে তার বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধ-প্রেম কাহিনী ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এর চূড়ান্ত শুটিং পর্যায়ে রয়েছেন। ছবির শুটিং শেষ করার জন্য তিনি রাতের পর রাত কাজ করছেন এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের কথা প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ভাঁসালির কাছে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের জন্য আবেদন জানায়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা চান, তিনি দেশের চলচ্চিত্রের গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে একত্রিত করে একটি ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা তৈরি করুন, যা জাতীয় গৌরবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
প্রাথমিকভাবে ভাঁসালি এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এর পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের চাপ তার সময়সূচি দখল করে রেখেছে। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন এবং তিনি কোনো ব্যাঘাত চান না।
কিন্তু ভাঁসালির নিজস্ব দল তাকে এই সুযোগটি হাতছাড়া না করার জন্য দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করে। দলের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, দেশের চলচ্চিত্রের গর্বকে একত্রিত করে একটি মণ্টাজ তৈরি করা তার জন্য একটি সম্মানজনক দায়িত্ব এবং এটি প্রত্যাখ্যান করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
দলের প্ররোচনায় ভাঁসালি শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন এবং কাজটি গ্রহণ করেন। তিনি জানান, এই মণ্টাজের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকে একত্রে উপস্থাপন করতে চান, যা দর্শকদের হৃদয়ে গর্বের সঞ্চার ঘটাবে।
প্রস্তুতির সময়সূচি কঠোর ছিল। গত দুই মাসে ভাঁসালি প্রায় নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে মণ্টাজের প্রতিটি দৃশ্য নির্বাচন ও সংযোজন করেন। তিনি পুরনো ক্লাসিক থেকে আধুনিক ব্লকবাসার পর্যন্ত বিভিন্ন যুগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে একত্রিত করেন।
প্রস্তুতকৃত মণ্টাজটি ইতিমধ্যে শিল্প সমালোচকদের কাছ থেকে ‘ইতিহাসের মাইলফলক’ হিসেবে প্রশংসা পেয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, এই কাজটি ভারতীয় সিনেমার সেরা মুহূর্তগুলোকে একত্রে তুলে ধরে একটি যুগান্তকারী ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেডে এই মণ্টাজের প্রদর্শন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরেডের দর্শক ও অংশগ্রহণকারীরা এই ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের গর্বের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করবে।
ভারতীয় সিনেমা ১৯১১ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’ প্রদর্শনের পর থেকে আজ পর্যন্ত ১১৩ বছরের দীর্ঘ যাত্রা অতিক্রম করেছে। এই সময়ে বহু শৈল্পিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ঘটেছে, যা মণ্টাজে সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে।
ভাঁসালি আশা প্রকাশ করেন, এই মণ্টাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং পুরনো দর্শক উভয়ই দেশের সিনেমা শিল্পের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকে পুনরায় অনুভব করবে। তিনি বলেন, এই কাজটি শুধুমাত্র একটি স্মরণীয় দৃশ্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
সর্বশেষে, ভাঁসালি উল্লেখ করেন যে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এর কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি এই মণ্টাজটি সময়মতো সম্পন্ন করেছেন এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেডে দেশের গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং জাতীয় উত্সবে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত যোগ করবে।



