সরকারি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)কে সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির মাধ্যমে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের জুড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি ও দামের তীব্র বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক ঘাটতিকে সরবরাহের অভাবের ফলাফল হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন যে বিপিসির আমদানি উদ্যোগ বাজারে চাপ কমাবে। তবে বিপিসি কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন যে অবিলম্বে স্বস্তি দেখা যাবে না, কারণ সংস্থার কাছে বিশেষায়িত লাইটারেজ জাহাজ ও নিবেদিত জেটি নেই, যা এলপিজি পরিবহনের জন্য অপরিহার্য।
এই অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে আমদানি কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ শুরু করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এলপিজি আমদানি প্রধানত বেসরকারি সংস্থাগুলো পরিচালনা করে আসছে; বিপিসি এখন কেবল বৃহৎ পরিমাণে (বাল্ক) এলপিজি আমদানি করতে পারবে, যা পরবর্তীতে বেসরকারি অপারেটররা নিজেদের টার্মিনালে বোটলিং করে বাজারে বিক্রি করবে।
বিপিসি কেবল অনুমোদিত বেসরকারি অংশীদারদের কাছে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ করবে এবং বোটলিং বা খুচরা বিক্রয়ে নিজে যুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থা বাজারে ইতিমধ্যে প্রভাবশালী বেসরকারি খেলোয়াড়দের ভূমিকা বজায় রাখবে।
বাজারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে যে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি ঘাটতির মূল কারণগুলোর একটি, তবে সরকার সরবরাহ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
একজন বিপিসি কর্মকর্তার গোপনীয়তা রক্ষার শর্তে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়েছে, সংস্থা পূর্বে কখনো এই ধরণের এলপিজি আমদানি করেনি, ফলে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমনকি আমদানি সম্পন্ন হলেও সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে না; বর্তমান বাজারে আধিপত্যকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোই বিতরণ ও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব রাখবে।
বিপিসি প্রথমে ১০ জানুয়ারি এলপিজি আমদানি অনুমতির আবেদন করে। এনার্জি মন্ত্রণালয় ১৮ জানুয়ারি মৌখিক সম্মতি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবার লিখিত অনুমোদন জারি করে। অনুমোদন পত্রটি বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে সম্বোধন করে এবং শাহিনা আখতার, সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি (এনার্জি ও মিনারেল) স্বাক্ষরিত।
এই অনুমোদনের ফলে বিপিসি বড় ট্যাঙ্কে এলপিজি আনা শুরু করতে পারবে, তবে যথাযথ জাহাজ ও জেটি না থাকায় পণ্যের গুদামজাতকরণে বিলম্বের সম্ভাবনা রয়ে গেছে। বেসরকারি বোটলিং ইউনিটগুলোও অতিরিক্ত লোডের মুখে পড়তে পারে, যা দামের অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি নিশ্চিত করতে হলে বিপিসি বা সরকারকে লাইটারেজ জাহাজের চুক্তি, জেটি নির্মাণ বা বিদ্যমান টার্মিনালের উন্নয়ন দ্রুততর করতে হবে। পাশাপাশি বাজারের স্বচ্ছতা ও তদারকি শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে ঘাটতি পুনরাবৃত্তি না হয় এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হয়।



