বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি একীভূত ইসলামী ব্যাংকের আমানতধারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ আর্থিক বছরের জন্য মুনাফা প্রদান করার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। পূর্বে ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত নীতির বিপরীতে, এখন দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ হারে মুনাফা ভাগ করা হবে। এই পরিবর্তনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের চিঠি মারফত প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রথমে জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে থাকায় আন্তর্জাতিক মান ও শারিয়াহ নীতি অনুসারে ২০২৪‑২০২৫ সালে কোনো মুনাফা প্রদান করা হবে না। সেই সময়ে ব্যাংকগুলোকে ‘হেয়ারকাট’ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে আমানতধারীদের মূলধন থেকে একটি অংশ কেটে নেওয়া হতো।
নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গৃহীত আমানতগুলোর উপর মুনাফা বা লাভের হিসাব করা যাবে না। তবে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের অবস্থান অনুযায়ী আমানত ব্যালেন্স পুনর্গণনা করে, পরবর্তী সময়ে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করা হবে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী হেয়ারকাটের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্সে তা প্রতিফলিত হবে।
একীভূত ব্যাংকগুলো হল এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। সরকার এই পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন সংস্থা গঠন করেছে এবং ১ ডিসেম্বর লাইসেন্স প্রদান করেছে। নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে।
এই আর্থিক পুনর্গঠন এবং মুনাফা বিতরণ নীতি বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। আমানতধারীরা এখন মুনাফা পাবেন বলে আশা করে, যা ব্যাংকগুলোর তরলতা ও জনসাধারণের আস্থার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তবে হেয়ারকাটের পরিমাণ ও পুনর্গণনার পদ্ধতি স্পষ্ট না হওয়ায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা স্বল্পমেয়াদে ডিপোজিটের প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবাদী আমানতধারীরা এই সিদ্ধান্তের আগে শাখা পর্যায়ে প্রতিবাদ শুরু করে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের টঙ্গাইল ও কুমিল্লার ধোরকারা বাজার শাখা বন্ধ করে, শাখা ব্যবস্থাপকরা প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠায়। এই ধরনের কর্মসূচি ব্যাংকের সুনাম ও গ্রাহক সন্তুষ্টিতে ক্ষতি করতে পারে, ফলে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত পরিষ্কার যোগাযোগ ও পরিষ্কার হিসাব প্রদান করতে হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মুনাফা বিতরণে পরিবর্তন ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে, বিশেষত শারিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে। তবে হেয়ারকাটের প্রয়োগ এবং পুনর্গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা না থাকলে, ভবিষ্যতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি একীভূত ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করে, শেয়ারহোল্ডার ও আমানতধারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করে, তবে এই সংস্থাগুলো আর্থিক সংকট মোকাবেলায় আরও সক্ষম হবে। একই সঙ্গে, শারিয়াহ নীতি ও আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয় বজায় রেখে মুনাফা নীতি গঠন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়ানো যায়।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন পাঁচটি একীভূত ইসলামী ব্যাংকের আমানতধারীদের জন্য ৪ শতাংশ হারে দুই বছরের মুনাফা নিশ্চিত করেছে, হেয়ারকাটের পরিমাণ পুনর্গণনা করে চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা হবে। এই পদক্ষেপ বাজারে আস্থা বাড়াতে পারে, তবে হেয়ারকাটের স্বচ্ছতা ও পুনর্গণনা প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে গ্রাহক বিরোধ কমে এবং ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।



