লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ ম্যাচে ফরাসি ক্লাব মার্সেইয়ের মুখোমুখি হয়ে ৩-০ পার্থক্যে জয়লাভ করে। এই জয়টি মোহাম্মদ সালাহের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পর প্রথম ম্যাচে ফিরে আসার সঙ্গে যুক্ত, যা দলের আত্মবিশ্বাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
পূর্বের পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাত্র একটিই জয় পেয়ে লালদের মনোবল কমে যাওয়ার কথা ছিল, তবে বিদেশি মাটিতে এই জয়টি তাদের জন্য বড় সিগন্যাল পাঠায়। বিশেষ করে, গ্রুপের শুরুর একাদশে সালাহের প্রত্যাবর্তন দলকে অতিরিক্ত উদ্দীপনা দিয়েছে।
খেলাটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিভারপুলের পাসের গতি ও বলের দখল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্সেইয়ের রক্ষণভাগকে চাপিয়ে দলটি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালায়, যা প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ফলপ্রসূ হয়।
ইনজুরি টাইমে ডোমিনিক সোবোস্লাইয়ের নিখুঁত ফ্রি-কিক মার্সেইয়ের রক্ষাকারী ও গোলকিপারকে অতিক্রম করে জালে গিয়ে ১-০ স্কোরের সূচনা করে। এই গোলটি লিভারপুলকে বিরতিতে নিয়ে যায়, যেখানে তারা সাময়িকভাবে নেতৃত্ব বজায় রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুলের আক্রমণাত্মক চাপ বাড়তে থাকে। ৭২ মিনিটে জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের কাটব্যাক মার্সেইয়ের গোলকিপার হেরোনিমো রুলির গায়ে লেগে নিজের জালে গিয়ে দ্বিতীয় গোলের সৃষ্টি করে, ফলে স্কোর ২-০ হয়ে যায়।
গোলের পরেও লিভারপুলের আক্রমণ থেমে না। ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো সাইড বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার পর দ্রুতই সুযোগ পায় এবং গোল করে তৃতীয় ও শেষ স্কোর যোগ করে। এই গোলটি ম্যাচের শেষ পর্যায়ে দলকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মার্সেইয়ের প্রতিরক্ষা শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের ধারাবাহিক আক্রমণ থামাতে পারে না, ফলে দলটি পুরো ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ পার্থক্যে জয়লাভ করে লিভারপুল গ্রুপ টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসে।
গ্রুপ পর্যায়ে সাতটি ম্যাচে পাঁচটি জয় এবং দুইটি হারে লিভারপুলের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই পয়েন্টের পরিমাণ তাদেরকে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সমান করে তুলেছে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
লিভারপুলের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা এফসি কারাবাগের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি দলকে গ্রুপের শীর্ষে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রশিক্ষক দলকে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সালাহের প্রত্যাবর্তন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
লিভারপুলের আক্রমণাত্মক শৈলী এবং রক্ষণশীল স্থিতিশীলতা এই জয়ের মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়। দলের দ্রুত পাস, উচ্চ প্রেশার এবং সেট-পিসের ব্যবহার তাদেরকে মার্সেইয়ের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
মার্সেইয়ের জন্য এই পরাজয়টি কঠিন, কারণ তারা লিভারপুলের আক্রমণকে সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। রক্ষণভাগের ত্রুটি এবং গোলকিপারের ভুলের ফলে দলটি বড় পার্থক্যে হেরে গেছে।
সামগ্রিকভাবে, লিভারপুলের এই জয়টি দলকে গ্রুপ পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ভিত্তি তৈরি করবে।



