দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক‑রাজনৈতিক সমন্বয়ের ফলে সিউলের নাগরিক সমাজের মধ্যে স্বায়ত্তশাসন হ্রাসের অভিযোগ তীব্র হয়েছে। সিউলের সিভিক লিডার এবং নাগরিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নীতিগত সমন্বয়ের নামে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার্যত সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে।
লয়ার্স ফর এ ডেমোক্রেটিক সোসাইটি (LFDS) এর প্রতিনিধি ইউন বোকনাম উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার নীতি উপদ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সিউল ও ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিগত কাঠামো দক্ষিণ কোরিয়ার স্বতন্ত্র নীতি নির্ধারণের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জোটের আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও দক্ষিণ কোরিয়াকে মূলত চীনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোরিয়া কনফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হ্যাম জে-গিউ প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এখন উত্তর কোরিয়ার মোকাবিলার বদলে চীনের বিস্তার রোধে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে কিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক ব্যয়কে সাড়ে সাত শতাংশ বাড়িয়ে তুলেছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধি সরকারকে আর্থিক দিক থেকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে এবং সামরিক ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক তীব্রতর করেছে।
শান্তি রক্ষাকারী আন্দোলনের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে আক্রমণের অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করছে, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং এমন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন, যা ঐতিহাসিকভাবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ ও শীর্ষ বৈঠকের পক্ষে ছিল। তার নেতৃত্বে সরকার পূর্বের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অধিকন্তু, ২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন এবং কিম জং-উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত উত্তেজনা প্রশমন চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার দাবি আন্দোলনকারীরা পুনরায় তুলে ধরেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পরিবর্তিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া নতুন বাঙ্কার‑বাস্টিং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছে, যা উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই পদক্ষেপটি চীনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হুমকির প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই নীতি পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট। কিছু দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, অন্যদিকে কিছু দল স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
ভবিষ্যতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের ফোকাস চীনের দিকে বেশি থাকে, তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের সুযোগ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি দক্ষিণ কোরিয়া স্বতন্ত্র নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে, তবে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সমঝোতা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি দক্ষিণ কোরিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রচেষ্টার দিকে নিবদ্ধ থাকবে, এবং উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



