বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খোঁজে, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, সব বিকল্প এখনো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি এবং আইসিসি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
আইসিসি ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, ফলে কিছু দেশ ম্যাচের স্থানান্তর চেয়েছে। বাংলাদেশও এই আলোচনায় যুক্ত হয়ে, ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল খেলোয়াড় ও স্টাফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বিসিবি এছাড়াও আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছে, যা সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রুপ বদলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিরাপদ পরিবেশে খেলতে দেওয়া যায়, একইসাথে টুর্নামেন্টের শিডিউলেও বড় পরিবর্তন না ঘটায়। তবে শ্রীলঙ্কা এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেননি, তারা তাদের গ্রুপে নতুন দল যুক্ত করতে ইচ্ছুক নয় বলে জানায়।
বুলবুল জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে সবাই ইচ্ছুক, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশকে সমর্থনকারী যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, যাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর হয় এবং টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আইসিসিকে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানান।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিকল্পগুলো তুলে ধরবেন, যাতে দলটি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। এই বৈঠকটি টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিসিবি স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা সরকারের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করতে চায় না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে, এবং সেই সিদ্ধান্ত আইসিসিকে জানানো হবে। সরকারী সিদ্ধান্তে কেবল খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নয়, সামগ্রিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতাও বিবেচনা করা হয়।
আইসিসির গভার্নিং বডির ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই ভারতভিত্তিক ম্যাচ না খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে বাকি সদস্য দেশগুলোর অধিকাংশের ভোট বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়েছে, ফলে আইসিসি পূর্বের সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। এই ভোটের ফলাফল টুর্নামেন্টের আয়োজনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
একই বৈঠকে আইসিসি জানিয়েছে, ভারতভিত্তিক ম্যাচে বাংলাদেশকে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্মুখীন হতে হবে না। এই মন্তব্যটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে, তবে দলটি এখনও ভিন্ন ভিন্ন বিকল্পের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বুলবুলের মতে, আইসিসি যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণে ইচ্ছুক হয়, তবে ম্যাচের স্থানান্তর বা গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব দরজা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ নয় এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সম্ভব।
বিসিবি এখন পর্যন্ত আইসিসি ও শ্রীলঙ্কা সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। তারা টুর্নামেন্টের সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় দলটি প্রস্তুতিমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে, বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের আশার আলো জ্বলছে; যদিও আইসিসির সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসলেও, বিসিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে দলটি বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো নতুন বিকল্প উন্মোচিত হলে তা দ্রুত জানানো হবে এবং দলকে সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করা হবে।



