যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটি রিপাবলিকান নেতৃত্বে ক্লিনটন দম্পতিকে কংগ্রেসের অবমাননা (কন্টেম্পট) করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তারা জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্তে সমর্পিত সমন্বয় আদেশ মানতে অস্বীকার করেছে। কমিটির ভোটে বেশিরভাগ রিপাবলিকান এবং কিছু ডেমোক্র্যাট সমর্থন করেন, ফলে বিষয়টি পূর্ণ হাউসের সামনে নিয়ে যাওয়া হবে।
কমিটি যদি পূর্ণ হাউসে অনুমোদিত হয়, তবে বিষয়টি ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে কি না। কন্টেম্পটের অপরাধটি অপরাধবিহীন (মিসডিমিনার) হিসেবে গণ্য হয়, যার শাস্তি সর্বোচ্চ এক লক্ষ ডলার জরিমানা এবং এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনকে সমর্পিত আদেশে সাক্ষ্য দিতে এবং এপস্টেইন সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিল ক্লিনটন ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে এপস্টেইনের সঙ্গে ফটোগ্রাফে দেখা গিয়েছিলেন, তবে এপস্টেইনের শিকারদের দ্বারা তার বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি অভিযোগ ওঠেনি এবং তিনি নিজের অজ্ঞতা দাবি করেন।
ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা কমিটির সমর্পিত আদেশকে “অপ্রয়োগযোগ্য” বলে খণ্ডন করেন এবং জানান যে তারা ইতিমধ্যে এপস্টেইন সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা সীমিত তথ্য সরবরাহ করেছে। তারা আরও যুক্তি দেন যে এই আদেশগুলো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপমান করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে করা হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
বুধবারের ভোটে নয়জন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কন্টেম্পটের সিদ্ধান্তে সমর্থন দেন, আর তিনজন ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপে ভোট দেন। এই ভোটের ফলে দুইজনই একই সময়ে কংগ্রেসের অবমাননা অভিযোগের শিকার হয়েছেন।
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার পূর্ণ হাউসকে ক্লিনটন দম্পতিকে কন্টেম্পটের শিকার করার আহ্বান জানান, যেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং কোনো ব্যক্তি, পদ বা মর্যাদা নির্বিশেষে ন্যায়বিচারকে সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা কমার কাছে লিখিত চিঠিতে জানান যে তারা কমিটির সঙ্গে “সক্রিয় ও স্বেচ্ছায়” যোগাযোগ করেছে এবং সমর্পিত আদেশের বিষয়টি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন। তবু কমিটি এই বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
যদি পূর্ণ হাউস ভোটে এই পদক্ষেপকে অনুমোদন করে, তবে ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় শেষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে কন্টেম্পটের অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে কি না। এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক উত্তেজনা যোগ করবে, বিশেষ করে যখন দুইজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনাটি এপস্টেইন স্ক্যান্ডালের সঙ্গে যুক্ত অতীত সম্পর্কের পুনরায় আলোচনার দরজা খুলে দেবে, যদিও বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ এখনো ওঠেনি। ভবিষ্যতে কমিটি কীভাবে এই বিষয়টি পরিচালনা করবে এবং ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা উল্লেখ করেন যে তারা সমর্পিত আদেশের বিষয়টি ইতিমধ্যে সমাধান করেছে এবং অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবু কমিটি তাদেরকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে এবং অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করতে আহ্বান জানিয়ে অব্যাহত রাখে।
এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হবে পূর্ণ হাউসের ভোট, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের মতামত স্পষ্ট হবে। ভোটের ফলাফল নির্ভর করবে পার্টি-ভিত্তিক রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক গতিবিধির ওপর, এবং ফলাফল ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, হাউস ওভারসাইট কমিটি ক্লিনটন দম্পতিকে কন্টেম্পটের শিকার করার প্রস্তাব পেশ করেছে, যা পূর্ণ হাউসের অনুমোদন ও ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা করবে।



