সৌদি আরবের ইসলাম ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রমজান মাসে মসজিদে বাইরে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধের আদেশ পুনরায় কার্যকর করেছে। আদেশটি রমজান পুরো সময়ের জন্য প্রযোজ্য এবং মসজিদে নামাজের সময় বাহ্যিক অডিও সরঞ্জাম ব্যবহারের উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শিখ আবদুললতিফ আল শেইখের মতে, রোজার পবিত্র মাসে মসজিদে মাইক লাগিয়ে নামাজ সম্প্রচার করা অনুমোদিত হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে মাইক কেবল আজান ও নামাজ শুরুর আগে দ্বিতীয় আজান (ইকামা) সময়ে ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোনো সময়ে তা নিষিদ্ধ। এই সীমাবদ্ধতা মসজিদে শোভা ও শান্তি বজায় রাখতে এবং শোরগোল কমাতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
রমজানকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয় মসজিদ প্রস্তুতির জন্য বিস্তৃত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় হিজরি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারিভাবে নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি মেনে চলার গুরুত্ব জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি নামাজের সময় আজান ও ইকামার মধ্যে নির্দিষ্ট বিরতি রাখার নির্দেশও অন্তর্ভুক্ত।
নির্দেশিকায় ইফতারের আয়োজনের জন্য মসজিদের নির্দিষ্ট উঠানগুলোকে একমাত্র স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মসজিদে অতিরিক্ত খাবার সংরক্ষণ না করার এবং পানির ব্যবহার সংযমে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থা ইফতার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও রক্ষণাবেক্ষণ দলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নামাজের স্থানকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মসজিদে সকল মুমিনের জন্য সমান পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে এই পদক্ষেপগুলো রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, মসজিদের আশপাশের এলাকার প্রতি সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই নীতিকে সৌদি আরবের ধর্মীয় পর্যটন ও হজ-উমরাহ পরিচালনায় এক নতুন দৃষ্টিকোণ হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। পূর্বে রমজানে সুরক্ষা বাড়াতে ক্যামেরা ও নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আর এখন অডিও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা আরও দৃঢ় করা হচ্ছে।
একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, রমজানে মাইক নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় মসজিদে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে আরও স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ করে তুলবে, যা মুসলিম ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের ইস্লামিক ইমেজকে শক্তিশালী করে, কারণ এটি ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও জনসুরক্ষার প্রতি সরকারের দৃঢ় মনোভাবকে প্রকাশ করে।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রমজান মাসে এমন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক সঙ্গী দেশগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওসিসি (OIC) এবং গুলফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলো ইতিমধ্যে রমজানের নিরাপদ পালনকে সমর্থন জানিয়েছে, এবং এই নতুন নির্দেশিকা তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মন্ত্রণালয় আগামী রমজান সপ্তাহে এই নির্দেশনার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রাখবে। রমজানের শেষ দিকে যদি কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখা দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনী নোটিশ প্রকাশ করতে পারে। এভাবে, রমজান মাসে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।



