বিএনপি সিলেট শাখা আজ সকাল ৮টায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার প্রথম নির্বাচনী র্যালি উদ্বোধন করেছে। র্যালির প্রস্তুতি গত সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়, যেখানে শত শত সমর্থক, নেতা ও কর্মী একত্রিত হয়েছেন। র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির চেয়ারপারসন তারিক রহমান উপস্থিত থাকবেন, আর সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ৬১ বছর বয়সী শারীরিকভাবে অক্ষম তাড়া মিয়া, যিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রাতঃকালেই পৌঁছেছিলেন। তিনি নিজের হাতে তোলা একটি ডেইলি স্টার প্রতিবেদনের কপি সঙ্গে নিয়ে আসেন, যেখানে তার ছবি রয়েছে। তাড়া মিয়া সকাল ৮টায় পৌঁছে, পার্টির সঙ্গে কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথা স্মরণ করে, এখন পার্টি উন্নতির পথে যাওয়ায় তার ত্যাগের স্বীকৃতি চান।
“আমি সকাল ৮টায় পৌঁছেছি। কঠিন সময়ে আমি পার্টির সঙ্গে দাঁড়িয়েছি। এখন পার্টি উন্নতির পথে, আমার ত্যাগ স্বীকৃত হওয়া দরকার,” তাড়া মিয়া র্যালি মাঠে উপস্থিত হয়ে বলেন। তিনি পার্টির চেয়ারপারসন তারিক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মিডিয়ার মাধ্যমে অনুরোধ করেন।
“বিএনপির কারণে আমাকে অত্যাচার করা হয়েছে। যদি আমি তারিক জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারি, তবে আমি খুবই আনন্দিত হব,” তাড়া মিয়া তারিক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টিতে তার কোনো পদ নেই, তবে তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর সম্মান পোষণ করেন।
তাড়া মিয়া র্যালি মাঠে রাতারাতি অবস্থান করে, খাবার ও বিশ্রাম ছাড়াই সময় কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি পার্টিতে কোনো পদে নেই, আমি জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসি।” তাড়া মিয়া তারিক রহমানের কাছে আরেকটি অনুরোধও রাখেন, তার কন্যা যিনি সম্মানস্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, তার জন্য চাকরি নিশ্চিত করতে পারলে তার জীবনের মান উন্নত হবে।
“আমি অক্ষম ব্যক্তি। যদি আমার কন্যা চাকরি পায়, তবে আমার জীবিকা চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে,” তিনি তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাড়া মিয়া সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালি ইউনিয়নের ভান্ডা গ্রাম থেকে আসা, জন্ম থেকেই ডানহাতে বিকৃতি থাকায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না; তাই তিনি পরিবারকে ভিক্ষা মাধ্যমে সমর্থন করেন। তার পরিবারে স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যা রয়েছে।
২০১৮ সালে তাড়া মিয়াকে একটি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়, যেখানে বিএনপি র্যালি চলাকালীন সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা ও পুলিশে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। ডেইলি স্টার ২২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে তার গ্রেফতার ও অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশের পর উচ্চ আদালত পরের দিন তাকে জামিন প্রদান করে।
র্যালি শুরু হওয়ার আগে, গত সন্ধ্যা থেকে শতাধিক সমর্থক, নেতা ও কর্মী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জমায়েত হয়েছেন। পার্টি এই র্যালিকে তারিক রহমানের প্রধান ভাষণ দিয়ে উদ্বোধন করবে, যেখানে পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিলেট জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন, যা র্যালির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।
বিএনপি এই র্যালির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অংশে তার নির্বাচনী প্রচার চালু করার সূচনা করেছে। তাড়া মিয়ার মতো অক্ষম ও দরিদ্র সমর্থকদের উপস্থিতি পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যের প্রতিফলন। র্যালির পরবর্তী ধাপ হিসেবে সিলেটের অন্যান্য জেলা ও শহরে সমান রকমের র্যালি ও সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পার্টির উপস্থিতি দৃঢ় করবে।
এই র্যালি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে। তাড়া মিয়ার মত সাধারণ নাগরিকের চাহিদা ও সমস্যার প্রতি পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



