সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির বাজারে গত এক বছরে নিয়োগদাতাদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও পদবির ওপর জোর কমে এখন প্রার্থীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কাজের গতি, মান ও দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষমতা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব স্তরে প্রভাব ফেলছে।
নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়োগদাতাদের ভাষা ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে AI-কে কেন্দ্রীয় মানদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। পূর্বে কেবল অভিজ্ঞতা ও শিরোনামই যথেষ্ট ছিল, এখন প্রার্থীর AI টুলসের সঙ্গে পরিচিতি ও প্রয়োগের দক্ষতা সরাসরি বাছাইয়ের শর্তে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি নিয়োগদাতা প্রাথমিক স্ক্রিনিং পর্যায়ে AI ও স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিতি অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। এই শর্তটি এখন নিয়োগের প্রথম ধাপেই প্রার্থীর প্রোফাইলের মূল অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রার্থী অনুসন্ধান থেকে শুরু করে রেজ্যুমে যাচাই, সাক্ষাৎকার নির্ধারণ এবং দক্ষতা মূল্যায়ন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় টুলসের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে মানবিক হস্তক্ষেপ কমে গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে AI সম্পর্কে ধারণা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তাদের রেজ্যুমে দ্রুত স্ক্রিনিং পাস করে এবং পরবর্তী ধাপে প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলের অধিকাংশ পেশাজীবী নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে AI টুলস ব্যবহার করছেন এবং এর ফলে উৎপাদনশীলতা ও কাজের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটছে। এই প্রবণতা নিয়োগদাতাদের কাছে AI দক্ষতাকে মৌলিক প্রত্যাশায় রূপান্তরিত করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রার্থীদের কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। AI, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারা এখন বাছাই তালিকায় স্থান পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
প্রার্থীদের জন্য এই নতুন চাহিদা মানে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন। AI টুলসের ব্যবহারিক কোর্স, সার্টিফিকেশন এবং বাস্তব প্রকল্পে অংশগ্রহণ এখন চাকরির বাজারে প্রবেশের অপরিহার্য শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিগুলোর জন্য AI-ভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর ও অধিক সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রদান করে। স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিনিং মানবিক ত্রুটি কমায়, সময় সাশ্রয় করে এবং প্রার্থীর দক্ষতা মূল্যায়নে অধিক নির্ভুলতা আনে।
তবে অতিরিক্ত অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরতা কিছু ঝুঁকি বহন করে। সফট স্কিল, সাংস্কৃতিক মানিয়ে নেওয়া এবং মানবিক গুণাবলী অ্যালগরিদমে পুরোপুরি ধরা না পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছু যোগ্য প্রার্থীর বাদ পড়ার কারণ হতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে AI-সচেতন কর্মশক্তির চাহিদা আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো AI-ভিত্তিক কোর্সের পরিসর বাড়াবে, আর কোম্পানিগুলো যারা এই প্রবণতাকে দ্রুত গ্রহণ করবে তারা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, AI গ্রহণে ধীরগতি দেখানো প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে তাদের অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির বাজারে AI দক্ষতা এখন মৌলিক প্রত্যাশা এবং নিয়োগের মূল মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য এটি নতুন দক্ষতা অর্জনের সংকেত, আর নিয়োগদাতাদের জন্য এটি কার্যকর, দ্রুত এবং নির্ভুল নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুযোগ প্রদান করছে।



