সিলেট টাইটান্সের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দলটি পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। মেহেদি হাসান মিরাজের আউট হওয়া এবং তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সই এই ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে মিরাজ ১৩ ball-এ মাত্র ৯ রান করে আউট হন, ফলে টাইটান্সের জয়ের সম্ভাবনা দ্রুত হ্রাস পায়।
মিরাজের এই পারফরম্যান্স শুধুমাত্র একক ম্যাচের ব্যর্থতা নয়; কোয়ালিফায়ার সিরিজে তার মোট ৯ ইনিংসের গড় ১২.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ৯০.৯০। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, পুরো টুর্নামেন্টে মিরাজের মোট স্কোর ১০০ রান, যা তার পূর্ববর্তী শোয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বোলিং দিক থেকে মিরাজের অবদানও সীমিত ছিল। এই ম্যাচে তিনি ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন, যা তার একমাত্র সফল বোলিং পারফরম্যান্স। তবে টুর্নামেন্টের মোট ১২ ম্যাচে তার শিকার মাত্র ৬ উইকেট, এবং ওভারপ্রতি গড় রান ৯, যা তার বোলিং দক্ষতার অবনতি নির্দেশ করে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই ম্যাচের আগে মিরাজের বোলিং ব্যবহার খুবই কম ছিল; তিনি কোনো ম্যাচে ৪ ওভারের বেশি বোল করেননি। তার পূর্বের পারফরম্যান্সের বিপরীতে, যেখানে তিনি ধারাবাহিকভাবে ওভার সম্পূর্ণ করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিতেন, এই টুর্নামেন্টে তার বোলিং প্রভাব সীমিত রয়ে গেছে।
গত বছর মিরাজের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্য স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বিপিএলে তিনি ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে এবং ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিলেন। তবে এই সিজনে তার অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে ‘ফ্লপ অব দা টুর্নামেন্ট’ শিরোনাম পেয়েছে।
টাইটান্সের কোচ সোহেল ইসলাম মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, মিরাজের পরিকল্পনা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারা যায়নি, ফলে লোয়ার অর্ডার খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কোচের মতে, যদি মিরাজের ইনিংস আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হতো, তবে টাইটান্সের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ত।
সোহেল ইসলাম বেসিক্যালি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মিত কোচদের একজন এবং মিরাজের সঙ্গে বহু সময় কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মিরাজের এই সিজনের শুরুটা খুবই দুর্বল ছিল, যা পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করেছে। সিলেটে ধারাবাহিক ম্যাচের চাপ এবং মানসিক প্রস্তুতির অভাবই তার খারাপ শুরুর পেছনের প্রধান কারণ।
কোচের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিরাজের শুরুর দুর্বলতা টাইটান্সের সামগ্রিক কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। টাইটান্সের ব্যাটিং লাইনআপে মিরাজের আউট হওয়া মানে মাঝারি ও শেষের ওভারগুলোতে শক্তি কমে যাওয়া, যা শেষ পর্যন্ত টিমের স্কোরকে সীমিত করে।
এই পরাজয়ের ফলে সিলেট টাইটান্স টুর্নামেন্টের কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে আর অগ্রসর হতে পারবে না। দলটি এখন পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেবে, আর মিরাজের জন্যও নিজের ফর্ম পুনরুদ্ধার করা জরুরি।



