28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিবাংলাদেশের ইন্টারনেট প্রবেশ হার ৫৩ শতাংশ, আঞ্চলিক সমকক্ষদের পিছনে

বাংলাদেশের ইন্টারনেট প্রবেশ হার ৫৩ শতাংশ, আঞ্চলিক সমকক্ষদের পিছনে

বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনসংখ্যার অনুপাত ৫৩ শতাংশে স্থিত, যা সাম্প্রতিক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) প্রকাশিত বিশ্লেষণে প্রকাশিত হয়েছে। এই সংখ্যা দেশকে আঞ্চলিক শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রাখছে, যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কিছুটা সমান স্তরে রয়েছে।

বিহার ও মালদ্বীপের ইন্টারনেট প্রবেশ হার যথাক্রমে ৮৮ এবং ৮৫ শতাংশ, আর ভারতের ৫৭, নেপালের ৫৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা যদিও ৪জি নেটওয়ার্কে প্রায় সর্বজনীন কভারেজ অর্জন করেছে, তবু সক্রিয় ব্যবহার মাত্র ৫১ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

এই পার্থক্যের মূল কারণ হিসেবে রিপোর্টে দু’টি প্রধান বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে: ইন্টারনেটের দাম উচ্চ হওয়া এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব। উভয়ই দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য অনলাইন সেবা গ্রহণকে কঠিন করে তুলছে।

প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে জোর দিয়েছে যে, বাংলাদেশের ইন্টারনেট প্রবেশ হার দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির রয়েছে এবং ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য বাড়ছে। এই দুইটি বিষয়ই দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি ধীর করার প্রধান কারণ।

লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট: মাত্র ১৯ শতাংশ নারী মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে, যেখানে পুরুষের হার ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বৈষম্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণে নারীদের পিছিয়ে রাখছে।

গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায়ও বড় ফারাক দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের ব্যবহারকারী শহরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এই পার্থক্যকে বাড়িয়ে তুলছে দেশের মোট ডিজিটাল সাক্ষরতার হার, যা মাত্র ৪৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

মোবাইল ফোনের মালিকানা ব্যাপক হলেও, উচ্চ সাক্ষরতা ও সাশ্রয়ী ডেটা প্যাকেজের অভাবে অনেক মানুষ ডিজিটাল সেবার বাইরে রয়ে যায়। ফলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না।

রিপোর্টটি দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও পাবলিক সেবা ডিজিটালাইজেশন স্তর বিশ্লেষণ করেছে। এতে প্রতিটি দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এর পরিপক্কতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশ কিছু দেশে প্রতিষ্ঠানগত ফাঁক ও নীতি ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে উচ্চ প্রভাবশালী সংস্কার ও বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সেবা উন্নত করতে পারে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা, স্মার্ট ন্যাশনাল আইডি, বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ জনগণকে কভার করে। এই কভারেজ হার দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেমের পরিপক্কতা নির্দেশ করে।

তুলনামূলকভাবে, ভারতের আদাহার সিস্টেম প্রায় ৯৯ শতাংশ নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ছোট দেশগুলো যেমন ভুটান ও মালদ্বীপেরও উচ্চতর কভারেজ হার রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

সারসংক্ষেপে, দেশের ইন্টারনেট প্রবেশ হার উন্নত করতে সাশ্রয়ী ডেটা প্যাকেজ, ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার বিস্তৃতি ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কারকে ত্বরান্বিত করলে, বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে আরও সমান সুযোগের পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments