বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান বুধবার রাত ১টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা জেলায় শিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও স্থানীয় জনগণের সামনে শহীদ জিয়ার সময়ের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কৃষকদের পানির সমস্যার সমাধান এবং তাদের স্বাবলম্বী করা।
অনুষ্ঠানটি শীতল রাতের সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় নেতা, কৃষক ও সাধারণ নাগরিকরা একত্রিত হয়েছেন। তরিক রহমান উপস্থিতদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, আর এ জন্য খাল খনন কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
তরিক রহমান জিজ্ঞাসা করেন, শহীদ জিয়ার সময়ের মূল খাল খনন প্রকল্পের সম্পর্কে কেউ জানে কি না বা দেখেছে কি না। উপস্থিত কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ উত্তর দেন যে তারা সেই সময়ের কাজের কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি প্রকল্পের পুনরায় সূচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
চেয়ারপার্সন পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড ব্যবহার করে মা-বোন এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি দেশের ধানের শীষকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান, যাতে কৃষকরা ভাল ফলন পেতে পারে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে তরিক রহমান উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য দলের নির্বাচনী কার্যক্রম এখান থেকে শুরু হবে। তিনি আল্লাহর রহমতে এই প্রচারণা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তরিক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে যুবকদের ভূমিকা গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিশেষ করে সিলেটের অনেক তরুণ লন্ডনে কাজ করতে যান। তিনি বলছেন, বিএনপি যুবকদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রতিটি জেলায় বিদেশি ভাষা শেখার ব্যবস্থা করবে, যাতে তারা দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
তিনি ডা. জোবাইদাকে নিজের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজেও এই এলাকার সন্তান এবং পরিবারের অংশ। এ কথা বলার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আত্মীয়তার অনুভূতি জোরদার করেন এবং আবারও ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ সমৃদ্ধ হবে এমন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন অতীত ১৫-১৬ বছরকে স্বৈরাচারী শাসনের সময় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই সময়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটদানের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। তিনি এই দমনের শেষের দাবি করেন এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে জোর দেন।
রাতের শেষ দিকে তরিক রহমান সিলেট থেকে রওনা হন, তবে তার আগমন ও মাজার জিয়ারত স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে জানানো হয়। তিনি শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিতদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সমর্থন আহ্বান করেন।



