ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বুধবার দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) একটি সেশনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল প্যাভিলিয়ন USA হাউস তার প্রবেশ অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। নিউসমের অফিস জানায়, তিনি মিডিয়া পার্টনার ফর্চুনের আয়োজনকৃত একটি ইভেন্টে বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রিত ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্যাভিলিয়ন থেকে প্রবেশ নিষেধের নোটিশ পাওয়া যায়।
নিউসমের টুইটারে তিনি USA হাউসের সিদ্ধান্তকে “ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অংশ, তবু কেন বাদ পড়ল” বলে সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের চাপ থাকতে পারে বলে তার অফিসের বক্তব্য।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিউসমের দাভোস সফরকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়। হোয়াইট হাউসের spokeswoman অ্যানা কেলি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে, নিউসমের মতো রাজ্য নেতার স্বল্পমেয়াদী উপস্থিতি আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে অপ্রয়োজনীয় এবং তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়া উচিত, এধরনের মন্তব্য প্রকাশ করেন।
কেলির মন্তব্যে নিউসমের নাম উল্লেখ করে তাকে “তৃতীয়-শ্রেণীর গভর্নর” বলে উপহাস করা হয় এবং কেন তিনি সুইজারল্যান্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সমস্যাগুলো সমাধান না করে, তা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তবে কেলি স্পষ্ট করে বলেন না কেন USA হাউস নিউসমকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, অথবা তার সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের সরাসরি ভূমিকা আছে কিনা।
নিউসমের অফিসের মতে, USA হাউসের এই পদক্ষেপটি হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের চাপের ফলে নেওয়া হয়েছে। তিনি টুইটে লিখে বলেন, “একজন নেতা যদি অল্প আলোচনায়ই ভীত হয়, তবে তার নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।” এই মন্তব্যে তিনি হোয়াইট হাউসের নীতি ও তার নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে তীব্র পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
ফর্চুনের সঙ্গে যুক্ত ইভেন্টটি মূলত মিডিয়া পার্টনারশিপের আওতায় পরিকল্পিত ছিল। ইভেন্টের শুরুতে USA হাউসের একজন কর্মকর্তা ফর্চুনকে জানিয়ে দেন যে, তাদের পরিকল্পিত সেশনটি বাতিল করা হয়েছে এবং নিউসমকে প্যাভিলিয়নে মিডিয়া সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, প্যাভিলিয়নের বিকাল প্রোগ্রামে আরেকজন নির্বাচিত কর্মকর্তা অংশ নেবে, যা নিউসমের উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
দাভোসে একই সময়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টসহ কয়েকজন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। বেসেন্টের মন্তব্যে নিউসমের প্রতি উপহাসমূলক টোন দেখা যায়, যদিও তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি। এই পরিস্থিতি নিউসমের জন্য রাজনৈতিকভাবে অপ্রিয় পরিবেশ তৈরি করে।
গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্বে বিভিন্ন রাজ্য নীতি ও ফেডারেল সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের নাম নিবন্ধনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। দাভোসে তার বক্তৃতা বাতিল হওয়া তার রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
নিউসমের অফিসের দাবি অনুযায়ী, USA হাউসের সিদ্ধান্তটি কেবল তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে সীমাবদ্ধ করার একটি কৌশল হতে পারে। হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
দাভোসে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বমূলক প্যানেলগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং নিউসমের বাদ পড়া, দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি, নিউসমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে নিউসমের দল USA হাউসের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা বা আপিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। একই সঙ্গে, হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের পেছনের নীতি ও কৌশল সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা চাওয়া হবে। দাভোসে এই ঘটনার পরিণতি ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



