মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা সংঘাতের সমাধানে গঠিত শান্তি পর্ষদে চীনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন, এবং এই আমন্ত্রণের একদিন পর চীনের সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতিসংঘকে কেন্দ্রে রেখে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আমন্ত্রণের খবর টুইটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, আর চীনের প্রতিক্রিয়া বুধবার বেইজিংয়ের একটি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গাজা অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদে চীনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়, যাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ে এবং সংঘাতের সমাপ্তি ত্বরান্বিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন সরকার আমন্ত্রণের স্বীকৃতি সম্পর্কে স্পষ্টতা না দিয়ে, তবে নিশ্চিত করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বেইজিং জাতিসংঘকে কেন্দ্রে রেখে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করবে এবং জাতিসংঘের সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এই বক্তব্য চীনের দীর্ঘদিনের বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গুও জিয়াকুনের মন্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, চীন কোনো একক শক্তির প্রভাবের অধীন না থেকে, জাতিসংঘের কাঠামোকে শক্তিশালী করে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিহার্য এবং তা সঠিকভাবে কার্যকর করা দরকার।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের মর্যাদা নিয়ে, ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘ‑কেন্দ্রিক ব্যবস্থা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে, চীন নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে তা অধিক ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর হয়।
চীনের এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। গাজা শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে চীনকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা আলোচনায় আরও প্রভাবশালী ভূমিকা দিতে পারে। তবে চীন এখনও আমন্ত্রণ গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি চীন শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়, তবে তা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সেতু গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং গাজা সংকটের সমাধানে যৌথ প্রচেষ্টা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হলে, উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে চীন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা গাজা সংঘাতের সমাধান, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিবিধি এবং বৈশ্বিক শক্তি সমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি থাকবে চীনের ঘোষিত জাতিসংঘ‑কেন্দ্রিক নীতির বাস্তবায়ন এবং শান্তি পর্ষদে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের দিকে। এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে গ্লোবাল নিরাপত্তা ও শান্তি কাঠামোর ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হয়।



