লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত এমি-প্রাপ্ত পরিচালক ব্রুস বিলসন, ৯৭ বছর বয়সে শুক্রবার তার বাড়িতে শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যু পরিবার ও শিল্পের কাছ থেকে শোকের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
বিলসন হলিউডের চার প্রজন্মের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ, যেখানে তিনি পাঁচ দশক জুড়ে প্রায় চারশো টেলিভিশন প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার ক্যারিয়ার শুরু হয় লুসিলু প্রোডাকশনের অধীনে, যেখানে লুসিলু প্রতিষ্ঠাতা লুসিল বোল ও দেসি আরনাজের শোতে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
প্রারম্ভিক সময়ে তিনি অর্ধ-ঘণ্টার কমেডি সিরিজের অধিকাংশ এপিসোড পরিচালনা করেন, যার সংখ্যা একশেরও বেশি। ১৯৭২ সালে তিনি প্রথম ঘণ্টা-দৈর্ঘ্যের শো “অ্যালিয়াস স্মিথ অ্যান্ড জোন্স” এর একটি এপিসোড পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদী টেলিভিশন পরিচালকের রূপ নেন।
ব্রুসের দায়িত্বের তালিকায় “দ্য প্যাটি ডিউক শো”, “প্লিজ ডোন্ট ইট দ্য ডেইসিস”, “দ্য ডোরিস ডে শো”, “দ্য অড কাপল”, “লাভ, আমেরিকান স্টাইল”, “বিজে অ্যান্ড দ্য বেয়ার”, “বার্নি মিলার”, “দ্য ফল গাই”, “হোটেল”, “ডাইনোসর্স”, “দ্য সেনটিনেল” এবং “ভাইপার” সহ আরও বহু জনপ্রিয় সিরিজ অন্তর্ভুক্ত।
১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে তিনি লুসিল বোলের শেষ সিটকম “লাইফ উইথ লুসি” এর চূড়ান্ত এপিসোডও পরিচালনা করেন, যা তার দীর্ঘস্থায়ী টেলিভিশন যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিলসন ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত “দ্য অ্যান্ডি গ্রিফিথ শো” এর প্রথম দুই সিজনের ৫৮টি এপিসোডে প্রথম সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন, এরপর সিবিএসের “রুট ৬৬” সিরিজে স্থানান্তরিত হন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় স্পাই কমেডি “গেট স্মার্ট” এর প্রথম চার সিজনে মোট ২২টি এপিসোড পরিচালনা করেন। এই সময়ে তিনি শোয়ের হাস্যরস ও রসিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৬৮ সালে তিনি তৃতীয় সিজনের “ম্যাক্সওয়েল স্মার্ট, প্রাইভেট আই” এপিসোডের জন্য এমি পুরস্কার অর্জন করেন। এই এপিসোডে তিনি ক্লাসিক চলচ্চিত্র “দ্য মাল্টেজ ফ্যালকন” এর উল্লেখ করে শোয়ের কৌতুককে সমৃদ্ধ করেন।
অভিনেতা হিসেবে তিনি ১৯৪৫ সালের হুমফ্রি বোগার্টের চলচ্চিত্রে বেলবয় চরিত্রে ছোটো ভূমিকা পালন করেন, যা তার বহুমুখী শিল্পী জীবনের সূচনা করে।
পরিবারের মধ্যে তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার কন্যা জুলি বিলসন আহলবার্গ, যিনি “দ্য ফগ অব ওয়ার” সহ বেশ কিছু ডকুমেন্টারির প্রযোজনা করেছেন, তিনি পিতার মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেন।
বিলসনের সন্তানদের মধ্যে স্ক্রিনরাইটার ড্যানি বিলসন রয়েছেন, যিনি “দ্য রকেটিয়ার” এবং “দা ফাইভ ব্লাডস” সহ বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তার নাতি-নাতনি র্যাচেল বিলসন, যিনি “দ্য ও.সি.” এবং “হার্ট অফ ডিক্সি” তে অভিনয় করেছেন, পরিবারে শিল্পের ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন।
ব্রুস বিলসনের মৃত্যু টেলিভিশন শিল্পে এক যুগের সমাপ্তি নির্দেশ করে। তার অবদান, বিশেষ করে ১৯৬০-১৯৮০ দশকের ক্লাসিক কমেডি শোগুলিতে, আজও নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার স্মৃতি এবং কাজের উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ টেলিভিশন নির্মাণে সজীব থাকবে।



