যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর উপর আর ট্যারিফ আরোপের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই সিদ্ধান্তটি ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পরে ট্রাম্পের পোস্টে তিনি বলছেন, এই সমাধানটি যুক্তরাষ্ট্র এবং সব ন্যাটো দেশগুলোর জন্য উপকারী হবে। তিনি ভবিষ্যতে আলোচনার অগ্রগতি অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
ট্যারিফ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের দল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি তাকে রিপোর্ট করবেন। এ পর্যন্ত কোনো বিশদ শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথমে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে ১০% ট্যারিফ আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ১ জুন থেকে ২৫% পর্যন্ত বাড়বে। এই ট্যারিফগুলো যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যগুলোর ওপর প্রযোজ্য ছিল।
ট্যারিফ প্রত্যাহার সত্ত্বেও, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তিতে খনিজ অধিকার এবং পরিকল্পিত গোল্ডেন ডোম মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের অন্তর্ভুক্তি উল্লেখ করেছেন। তিনি এই চুক্তিকে “চিরকাল” স্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্পের পূর্বের মন্তব্যে তিনি লিজ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, “মালিকানা রক্ষা করা যায়, লিজ নয়” বলে জোর দিয়েছিলেন। এই অবস্থানটি গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ সম্পদে বিরল ধাতু ও রেয়ার আর্থ মাইনারেল সমৃদ্ধ, যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি সহ আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অঞ্চল পৃথিবীর আট নম্বর স্থানে রেয়ার আর্থ মাইনারেল রিজার্ভে রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে; আর্কটিকের প্রবেশদ্বার হিসেবে এটি সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিকেই গুরুত্বপূর্ণ। ড্যাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের জন্য “তাৎক্ষণিক আলোচনার” ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে জোর দিয়ে বলেছিলেন, “শক্তি ব্যবহার করে কোনো অঞ্চল দখল করা হবে না।”
ট্যারিফ প্রত্যাহার ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো ট্যারিফ হুমকির হ্রাসকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখবে, তবে গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখনও অনিশ্চিত। ন্যাটো সংস্থার অভ্যন্তরে এই বিষয়টি কীভাবে সমন্বিত হবে, তা পরবর্তী আলোচনার বিষয়।
ট্রাম্পের দল ভবিষ্যতে কী ধরনের চুক্তি গড়ে তুলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছেন, আলোচনার অগ্রগতি অনুযায়ী আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন, ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।



