মাইকেল বাউম্যান, গ্যাফার হিসেবে ক্যামেরা দলে কাজ শুরু করে তিন দশকের বেশি সময়ে চলচ্চিত্র শিল্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং পল থমাস অ্যান্ডারসনের সর্বশেষ ছবির ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’‑এর প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে বাউম্যান ক্যামেরা বিভাগে প্রশিক্ষণ নেন, এরপর ‘ট্রেইনিং ডে’, ‘মিউনিখ’ এবং ‘আয়রন ম্যান’ সহ বহু হলিউড ব্লকবাস্টার ছবিতে গ্যাফার হিসেবে কাজের তালিকা গড়ে তোলেন।
২০১২ সালে অ্যান্ডারসনের ‘দ্য মাস্টার’ ছবিতে গ্যাফার হিসেবে যোগদান করা বাউম্যানের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে; এই অভিজ্ঞতা তাকে অ্যান্ডারসনের পরবর্তী প্রকল্পগুলিতে নিয়মিত সহযোগী করে তুলেছে।
‘দ্য মাস্টার’ পরেই বাউম্যান অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চারটি অতিরিক্ত চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং রেডিওহেডের সঙ্গীত ভিডিওতে ক্যামেরা দায়িত্ব পালন করেন, যা তার সৃজনশীল পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।
২০১৭ সালের ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ ছবিতে বাউম্যানকে “লাইটিং ক্যামেরাম্যান” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; প্রকৃতপক্ষে তিনি বহু-শিরোনামযুক্ত চিত্রগ্রাহকের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন, যদিও ছবিতে কোনো আনুষ্ঠানিক চিত্রগ্রাহকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
২০২১ সালে ‘লিকোরিস পিজা’ তে অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চিত্রগ্রাহকের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়, যা বাউম্যানের জন্য প্রথমবারের মতো ডিপিএ ভূমিকা ভাগাভাগি করার সুযোগ এনে দেয়।
২০২৪ সালে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ শুটিংয়ের সময় বাউম্যান একক চিত্রগ্রাহক হিসেবে স্বীকৃতি পান; এই চলচ্চিত্রটি বর্তমানে অস্কারের শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত, যা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর সূচক।
চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক অ্যান্ডারসনের মধ্যে সৃজনশীল আলোচনা প্রায়শই “সেরা ধারণা জয়ী হয়” নীতির ওপর ভিত্তি করে চলে। উদাহরণস্বরূপ, হোটেল রুমে টেয়ানা টেলর (পারফিডিয়া) এবং শন পেন (লকজ) প্রথমবারের মতো দেখা হওয়া দৃশ্যের সময় অ্যান্ডারসন নতুন পদ্ধতি প্রস্তাব করেন, এবং বাউম্যান ‘ফ্যান্টম থ্রেড’‑এর বার্বারা রোজ দৃশ্যের শুটিং শৈলী অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যা অ্যান্ডারসন তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করেন।
বাউম্যানের মতে, অ্যান্ডারসনের কাজের পদ্ধতি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার চেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ধারণার ওপর বেশি নির্ভরশীল; তাই শুটিং চলাকালীন ক্রু সদস্যদের সৃজনশীল অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাউম্যানকে চিত্রগ্রাহকের ভূমিকায় স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেছে।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’‑এর চিত্রগ্রাহক হিসেবে বাউম্যানের দায়িত্বের বিস্তার ভবিষ্যতে অ্যান্ডারসনের বড় স্ক্রিন প্রকল্পে IMAX ক্যামেরা ব্যবহারের সম্ভাবনাকে ইঙ্গিত করে, যদিও এখনো তা নিশ্চিত নয়।
বাউম্যানের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা এবং শেষ পর্যন্ত একক চিত্রগ্রাহক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারা, হলিউডের গ্যাফার-থেকে-সিনেমাটোগ্রাফার রূপান্তরের একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা তৈরির প্রেরণা যোগাবে।



