ইউইমেনস লিগ কাপের সেমিফাইনালে চেলসি ১-০ স্কোরে ম্যানচেস্টার সিটিকে পরাজিত করে ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি জোই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং গেমের একমাত্র গোলটি ৪১তম মিনিটে উইকে ক্যাপটেইনের হেডার দিয়ে হয়। এই জয় চেলসির সপ্তম ধারাবাহিক ফাইনাল উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
গোলটি স্যান্ডি ব্যাল্টিমোরের ঝুলন্ত ক্রস থেকে আসে; ক্যাপটেইন জেড রোজকে অতিক্রম করে দূরের পোস্টে লাফিয়ে হেডে বলকে নেটের মধ্যে ঠেলে দেয়। তার এই মুহূর্তে সিটির ডিফেন্সারকে কোনো বাধা দেয়নি, ফলে গোলটি সহজে সম্পন্ন হয়।
প্রথমার্ধে চেলসির আধিপত্য স্পষ্ট ছিল, তবে দু’দলই গোলকিপারদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়। চেলসির আয়াকা ইয়ামাশিতা এবং সিটির হ্যান্না হ্যাম্পটন দুজনেই একাধিক এক্রোব্যাটিক সেভ করে স্কোরকে একগোলে সীমাবদ্ধ রাখে। তাদের চমৎকার রিফ্লেক্স এবং অবস্থানগত বুদ্ধিমত্তা ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলকিপারদের পারফরম্যান্সই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। হ্যাম্পটন সিটির আক্রমণকে বাধা দিতে ধারাবাহিকভাবে ঝুঁকি নেয়, আর ইয়ামাশিতা চেলসির শটগুলোকে চটকদারভাবে রক্ষা করে। দুজনেরই এই সেভগুলোই স্কোরকে একগোলে রাখার মূল কারণ।
এই জয় চেলসির জন্য মানসিকভাবে বড় বুস্ট, কারণ ১১ দিন পরে দু’দলই এতি’হাদ স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচটি উইমেনস সুপার লিগের শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেমিফাইনালের জয় উভয় দলে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই মৌসুমের পর চেলসি ও সিটি দু’দলই এই কাপ থেকে দূরে থাকতে পারে। আগামী সিজনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়া তিনটি ইংরেজি দলকে এই প্রতিযোগিতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, ফলে ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন আসবে।
লিগ কাপের ইতিহাসে ২০১১ সাল থেকে মাত্র তিনটি ক্লাব শিরোপা জিতেছে: আর্সেনাল, চেলসি এবং ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসি ও সিটি গত সিজনে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল, আর এখন চেলসি আবার ফাইনালে ফিরে এসেছে।
অন্য সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর্সেনালকে পরাজিত করে ফাইনালে নিশ্চিত হয়েছে। ইউনাইটেডের একমাত্র গোলটি এলিজাবেথ টেরল্যান্ডের দৌড়ে করা হয়, যা দলকে বিজয় এনে দেয়।
আর্সেনালের খেলোয়াড় অলিভিয়া স্মিথ দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে রেড কার্ড পান, ফলে দলটি কম人数ে শেষ করে। এই ঘটনা ম্যাচের প্রবাহে প্রভাব ফেলেছিল এবং ইউনাইটেডের জয়কে সহজ করে তুলেছিল।
ম্যাচের শেষের দিকে সিটি সমান স্কোর করার চেষ্টা করেছিল; হাফটাইমের ঠিক আগে তারা একটি সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে গোলকিপার ইয়ামাশিতার চমৎকার সেভে তা রোধ করা হয়। ফলে স্কোরে কোনো পরিবর্তন না ঘটায় সিটি হতাশ হয়।
চেলসির এই জয় তাদের ধারাবাহিক ফাইনাল উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়, যা ক্লাবের স্থায়ী শক্তি প্রদর্শন করে। সপ্তমবার ফাইনালে পৌঁছানো মানে দলটি এই টুর্নামেন্টে দীর্ঘমেয়াদী সফলতা বজায় রেখেছে।
ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া চেলসির জন্য শিরোপা জয়ের শেষ ধাপ হবে, আর উভয় দলই শিরোপা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। এই ম্যাচটি উইমেনস লিগ কাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।



