ডেমন স্লেয়ার সিরিজের শেষ পর্বের প্রথম অংশ, ‘ইনফিনিটি ক্যাসল’, গত বছর শেষের দিকে থিয়েটারে প্রদর্শিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী বিশাল আর্থিক সাফল্য অর্জন করে। টোকিও ভিত্তিক অ্যানিমেশন স্টুডিও উফোটেবল এই ছবির নির্মাণে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা হিকারু কন্ডো প্রযোজনা তত্ত্বাবধান করেছেন। ছবিটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিমে শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বক্স অফিসের তথ্য প্রকাশের পর, ছবিটি মোট ৭২২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার মধ্যে উত্তর আমেরিকায় একাই ১৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুসারে, ‘ইনফিনিটি ক্যাসল’ এখন পর্যন্ত জাপানি চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয়কারী শিরোপা ধারণ করে। পূর্বের রেকর্ড ভাঙা এই অর্জন, অ্যানিমের বৈশ্বিক আকর্ষণকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই আর্থিক সাফল্য কেবলমাত্র একটি বাণিজ্যিক মাইলফলক নয়, এটি অ্যানিমের থিয়েট্রিকাল শক্তি প্রমাণ করে। জাপানি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, একটি অ্যানিমেশন ফিচার বিশ্বব্যাপী প্রধান সিনেমা হলের স্ক্রিনে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ফলে, হোলিভুডের বড় স্টুডিওগুলোও অ্যানিমে ভিত্তিক বড় স্ক্রিন প্রকল্পে আগ্রহী হয়েছে।
‘ইনফিনিটি ক্যাসল’ মূলত কোয়োহারু গোটোজের মাঙ্গার চূড়ান্ত আর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ত্রয়ীর প্রথম চলচ্চিত্র। গোটোজের মূল কাজের শেষ অংশকে তিনটি সিনেমায় ভাগ করে উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে এই চলচ্চিত্রটি শেষের দিকে অবস্থিত। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি অদ্ভুত, গুরত্ববিহীন দুর্গ, যা শত্রুদের সঙ্গে চূড়ান্ত মুখোমুখি হওয়ার মঞ্চ তৈরি করে।
চিত্রনাট্যটি মূলত একটি পরিবর্তনশীল দুর্গের মধ্যে সংঘটিত হয়, যেখানে নায়করা শত্রুর সর্বোচ্চ শক্তির মুখোমুখি হয়। এই দুর্গটি শূন্যের মতো ভাসমান, গুরত্বের নিয়মকে অস্বীকার করে, ফলে দৃশ্যপটটি ভিজ্যুয়ালি চমকপ্রদ ও নাটকীয় হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রের শেষ অংশে দুইটি অতিরিক্ত অংশের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় স্ক্রিনে প্রকাশ পাবে।
চিত্রনির্দেশনা হরুয়ো সোটোজাকি পরিচালনা করেছেন, আর হিকারু কন্ডো প্রযোজনা তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ছবির সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছেন। উফোটেবলের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা এই চলচ্চিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
উফোটেবল স্টুডিওটি ২০০০ সালে হিকারু কন্ডোর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্টুডিওর নামের উৎপত্তি একটি অনন্য ডিজাইনার টেবিল থেকে, যা ইউএফও-আকৃতির ছিল এবং প্রতিষ্ঠার সময় অফিসে রাখা ছিল। এই নামকরণ কন্ডোর অ্যানিমেশনকে স্বতন্ত্র, সহযোগিতামূলক এবং শিল্পী-কেন্দ্রিক পরিবেশে গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
দুই দশকের বেশি সময়ে উফোটেবল তার সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল শৈলীর জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে, যেখানে হাতে আঁকা অ্যানিমেশনকে উন্নত সিজি কম্পোজিটিংয়ের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়। এই পদ্ধতি শিল্পের মধ্যে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্টুডিওকে আলাদা করে তুলেছে।
‘ইনফিনিটি ক্যাসল’ এর সাফল্য অ্যানিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন বড় স্টুডিওগুলো অ্যানিমে ভিত্তিক চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করছে, এবং উফোটেবলের মতো স্বতন্ত্র স্টুডিওগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই প্রবণতা অ্যানিমের শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
সারসংক্ষেপে, ‘ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল’ কেবলমাত্র একটি বাণিজ্যিক হিট নয়, এটি অ্যানিমের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও শিল্পের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে ত্রয়ীর বাকি দুই অংশের মুক্তি এবং অ্যানিমে ভিত্তিক বড় স্ক্রিন প্রকল্পের সম্ভাবনা, উফোটেবলের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাপানি অ্যানিমের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।



