20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প দাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ইউরোপের নীতি সমালোচনা করেন

ট্রাম্প দাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ইউরোপের নীতি সমালোচনা করেন

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ফলাফল তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার শাসনামলে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে, আয় ও বিনিয়োগে বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং এমন এক ধরনের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে যা পূর্বে কোনো দেশের রেকর্ডে নেই।

ট্রাম্পের মতে, কর কমানো এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর নীতি সরাসরি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের কারখানা নির্মাণের হার গত বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাত্র এক মাসের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।

বক্তৃতার শুরুর দিকে ট্রাম্প ইউরোপের বর্তমান আর্থিক ও সামাজিক নীতির দিকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেন। তিনি অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন এবং বিদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে ইউরোপের অগ্রগতির বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউরোপের অভিবাসন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, দূরদেশ থেকে আসা বিভিন্ন সংস্কৃতির বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিছু অঞ্চলে সামাজিক পরিবর্তন ঘটিয়ে তুলেছে, যা তিনি নেতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তার মন্তব্যে দেখা যায়, ইউরোপীয় দেশগুলোকে অভিবাসন নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান।

ট্রাম্প গ্রিন নিউ ডিলকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাপ্পাবাজি’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি খাত থেকে আয় বাড়ানো উচিত, ক্ষতি স্বীকার করা নয়। এই মন্তব্যে পরিবেশ নীতির প্রতি তার কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সমস্যার ওপর তার মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্য ১৯৯৯ সালের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি উৎপাদন করছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরের বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণকে ব্যবহার না করার কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং সরবরাহে সংকট দেখা দিচ্ছে বলে সমালোচনা করেন।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধানে ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বুধবারই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ নির্ধারিত। ট্রাম্পের মতে, উভয় পক্ষই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়। ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন এবং তার অধিগ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় তাদের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সমন্বিত নীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন, সমন্বিত বাজেট নীতি এবং নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

ইউক্রেনের ক্ষেত্রে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের শান্তি প্রত্যাশার স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও সমর্থন প্রয়োজন।

গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত আলোচনায় ডেনমার্কের সরকারী সূত্রগুলো ইতিমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করছে বলে উল্লেখ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নিয়ে কোনো ত্বরিত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়নি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক, জ্বালানি নীতি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধানে নতুন গতিপথের সূচনা করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments