ডেভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে আমেরিকান অর্থনীতির শক্তি ও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনটি বিদেশি নেতার প্রতি সরাসরি মন্তব্য করেন। তিনি কানাডার মার্ক কার্নি, ফ্রান্সের এম্যানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং সুইজারল্যান্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কারিন কেলার-সুটারকে লক্ষ্য করে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে কানাডার মার্ক কার্নি (যাকে তিনি প্রথম নামেই সম্বোধন করে) বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেছিলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল; তাই তোমার কথাগুলোতে এই বিষয়টি মাথায় রাখো, মার্ক।” এছাড়াও তিনি যুক্তি দেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক সুবিধা পায় এবং তাই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এই মন্তব্যকে কিছু বিশ্লেষক হুমকি হিসেবে, আবার অন্যরা তা স্বাভাবিক রায় হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রঁয়ের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার সানগ্লাস পরা চেহারাকে উল্লেখ করে রসিকতা করেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো নীতি সমালোচনা করেননি, তবে এই মন্তব্যটি ফরাসি মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। একইভাবে, সুইজারল্যান্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কারিন কেলার-সুটারকে তিনি “আমার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলা” বলে উল্লেখ করেন, যা সুইস রাজনৈতিক পরিবেশে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
মার্ক কার্নি ডাভোসে একটি তীব্র ভাষণ দেন, যেখানে তিনি “মহাশক্তিগুলো”কে তাদের অর্থনৈতিক প্রভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন। তার বক্তব্যের প্রশংসা দেশীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা করেন; একটি সিনেটর এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও কার্নি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবু তিনি “আমেরিকান আধিপত্য” এবং বিশ্বে “বিচ্ছিন্নতা, রূপান্তর নয়” এমন ধারণা তুলে ধরেন। তিনি ছোট দেশগুলোকে একসাথে কাজ করতে, অভিযোজনশীল হতে এবং “মহাশক্তি”র জবরদস্তি প্রত্যাখ্যান করতে আহ্বান জানান।
কানাডা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ধাতু ও গাড়ি শিল্পে আরোপিত শুল্কের প্রভাবের মুখোমুখি। এই শুল্কগুলো দেশের রপ্তানি খাতকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে, ফলে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান USMCA (উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) পুনর্নবীকরণে বড় গুরুত্ব দিচ্ছে। চুক্তির পুনর্বিবেচনা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে সরকার জোর দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ডাভোসে মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্পের রেটরিক্স কানাডার নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিতে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের নেতাদের প্রতি মন্তব্যকে ইউরোপীয় অংশীদারিত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডাভোস ফোরামটি বিশ্ব নেতাদের জন্য অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে ট্রাম্পের মত উচ্চপ্রোফাইল নেতাদের মন্তব্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে। তার বক্তব্যের ফলে কানাডা, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের সরকারগুলো তাদের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ডাভোসে মন্তব্যে কানাডা, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের নেতাদের সমালোচনা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে প্রভাব ফেলতে পারে।



