বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং এই তারিখের আগে সকল দলকে তাদের প্রার্থী নাম নিবন্ধন করতে হবে। তালিকায় দেখা যায় যে বিএনপি সর্বোচ্চ সংখ্যা প্রার্থী জমা দিয়েছে, মোট ২৮৮ জন, যা সংসদীয় আসনের প্রায় পুরোপুরি কভারেজের সমান। অন্যান্য দল ও স্বাধীন প্রার্থীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র তা পরিষ্কার হয়েছে।
বিএনপি ২৮৮ প্রার্থী দিয়ে সর্বোচ্চ স্থান দখল করেছে, যা ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৯৬% কভারেজের সমান। এর পর ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ প্রার্থী, এবং স্বাধীন প্রার্থীর সংখ্যা ২৪৯, যা ভোটারদের পছন্দের বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে। উভয় দলই তাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও নতুন মুখের সমন্বয় করে প্রার্থী তালিকা গঠন করেছে, ফলে নির্বাচনী মঞ্চে পুরনো ও নতুন শক্তির মিশ্রণ দেখা যাবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪ প্রার্থী, এবং জাতীয় পার্টি ১৯২ প্রার্থী তালিকাভুক্ত করেছে। গোনো অধিকার পরিষদ ৯০, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ ৬৫, এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ প্রার্থী দাখিল করেছে। এই দলগুলো মূলত নির্দিষ্ট আদর্শ ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে, এবং তাদের প্রার্থী সংখ্যা তাদের সংগঠনের সক্ষমতা ও ভোটার ভিত্তির পরিমাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বিএসডি) ৩৯, বাংলাদেশ খলাফত মজলিস ৩৪, এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ৩২ প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ২৬, গোনো ফোরাম ১৯ প্রার্থী তালিকায় রয়েছে। যদিও এই দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে তারা নির্দিষ্ট অঞ্চল ও সম্প্রদায়ে শক্তিশালী প্রভাব রাখে, যা নির্বাচনের ফলাফলে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২.৭৬ কোটি। এর মধ্যে ১৫,৩৩,৬৮৩ ভোটার পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন, যা ডিজিটাল ভোটার নিবন্ধনের প্রবণতা নির্দেশ করে। এই সংখ্যা দেশের বিস্তৃত ভোটার তালিকাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করে তুলেছে, বিশেষ করে যারা বিদেশে বসবাস করেন তাদের জন্য ভোটের সুযোগ বাড়িয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, কমিশন ৭,২৮,০২৩টি পোস্টাল ব্যালট বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছে পাঠিয়েছে। এই ব্যালট ১২২টি দেশের নাগরিকদের জন্য বিতরণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে বিদেশি ভোটারদের ভোটাধিকার ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে, ফলে তাদের মতামতও দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি দলকে তাদের প্রার্থী নির্বাচনের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ সংখ্যক প্রার্থী থাকা দলগুলোকে ভোটার সংযোগ, প্রচার কার্যক্রম এবং নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করতে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হবে। প্রার্থী তালিকায় নতুন মুখের উপস্থিতি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পার্টির ঐতিহ্যবাহী সমর্থকদেরও ধরে রাখার লক্ষ্য রাখে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইসলামি আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলবে। স্বাধীন প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলবে, কারণ তারা নির্দিষ্ট স্থানীয় সমস্যার উপর ভিত্তি করে ভোটারদের সমর্থন পেতে পারে। ফলে প্রধান দলগুলোকে স্বাধীন প্রার্থীর প্রভাবকে হিসাব করে তাদের প্রচার কৌশল সামঞ্জস্য করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা যাচাই, পোস্টাল ব্যালটের বিতরণ ও গৃহীত ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য তদবির চালিয়ে যাবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য। সকল দলই তাদের প্রার্থী তালিকা ও প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটারকে সমর্থন অর্জনের জন্য কাজ করবে, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণও প্রত্যাশিত।
এই নির্বাচন ২০২৪ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফলাফল পার্লামেন্টে শক্তি ভারসাম্য নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে। প্রার্থীর সংখ্যা এবং ভোটার নিবন্ধনের আধুনিকীকরণ একসাথে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে। সকল রাজনৈতিক শক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।



