ব্লেক লাইভলি এবং টেলর সুইফটের মধ্যে বিনিময় করা টেক্সট, পাশাপাশি জেনি স্লেট ও ইসাবেলা ফেররের ডিপোজিশন, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির পরিচালক জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে চলমান আইনি বিতর্কে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই নথিগুলো নিউ ইয়র্কের আদালতে গত সপ্তাহে উন্মোচিত হয় এবং মামলার মূল তারিখ ২০২৬ সালের ১৮ মে নির্ধারিত হয়েছে।
লাইভলি ডিসেম্বর ২০২৪-এ বালডোনি ও তার প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং তার সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে বালডোনি এবং তার দল সামাজিক মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে গোপনীয়ভাবে পরিকল্পনা চালিয়ে তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে চেয়েছিল।
বালডোনির আইনজীবী দল এই অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘সত্যের সম্পূর্ণ বিরোধী’ বলে খণ্ডন করে। তারা যুক্তি দেন যে লাইভলির অভিযোগে কোনো প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা।
বালডোনি নিজেও লাইভলির বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা দায়ের করেন, তবে সেই মামলা জুন ২০২৫-এ আদালত দ্বারা বাতিল করা হয়। বাতিলের কারণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করে যে মামলাটিতে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি অনুপস্থিত।
মামলার নতুন মোড় আসে যখন আদালত জেনি স্লেট এবং ইসাবেলা ফেররের ডিপোজিশনের ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করে। স্লেটের ডিপোজিশন ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয় এবং এতে তিনি বালডোনি ও প্রযোজক জেমি হিথের সঙ্গে কাজের সময়ের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন।
স্লেটের ডিপোজিশনে প্রকাশিত টেক্সটগুলোতে তিনি উল্লেখ করেন যে ছবির শুটিং প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত অশ্লীল ও অস্বস্তিকর’ ছিল এবং সেটি অনেক কর্মীর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বালডোনিকে ‘মিথ্যা মিত্র’ বলে বর্ণনা করেন এবং তার সঙ্গে কোনো প্রচারমূলক কাজ করতে অনিচ্ছুক বলে জানান।
একই সময়ে উন্মোচিত নথিতে লাইভলি এবং সুইফটের মধ্যে বালডোনি সম্পর্কিত টেক্সট মেসেজের কপি দেখা যায়। এই মেসেজগুলোতে দুজনই ছবির পরিবেশ এবং বালডোনির আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লাইভলি টেলরকে লিখে জানান যে তিনি বালডোনির সঙ্গে কাজ করার সময় যে চাপের মুখে পড়েছেন তা তার ক্যারিয়ারের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, লাইভলি বেন আফ্লেককে একটি ইমেইল পাঠিয়ে একই বিষয়গুলোতে আলোকপাত করেন। ইমেইলে তিনি বালডোনির আচরণ এবং সেটে ঘটিত সমস্যাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, যদিও ইমেইলের পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়নি।
ইসাবেলা ফেররের ডিপোজিশনেও বালডোনির সঙ্গে কাজের সময়ের কিছু ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন যে শুটিং চলাকালীন কিছু দৃশ্যে তিনি এবং অন্যান্য কাস্ট সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলায় উন্মোচিত সব নথি এবং টেক্সটের ভিত্তিতে আদালত এখন পর্যন্ত কোনো নতুন রায় দেয়নি, তবে আগামী মে মাসে নির্ধারিত ট্রায়াল এই বিষয়গুলোকে সমাধানের মূল মঞ্চে নিয়ে আসবে।
এই আইনি সংঘর্ষের পাশাপাশি শিল্প জগতে অন্যান্য খবরও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। টেলর সুইফট, অ্যালানিস মরিসেট এবং কেনি লগিন্স ২০২৬ সালের সঙরাইটারস হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা পেয়েছেন, যা বিনোদন জগতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির কাস্ট ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রকাশ চলচ্চিত্র শিল্পে কর্মপরিবেশের স্বচ্ছতা এবং সুরক্ষার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে এই মামলাটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিযোগের সীমা ছাড়িয়ে শিল্পের কাঠামোগত সমস্যাগুলোকে উন্মোচন করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অভিযোগের সমাধানে আরও কঠোর নীতি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
মামলার অগ্রগতি এবং উন্মোচিত নথির ভিত্তিতে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হবে, যাতে শিল্পের ন্যায়বিচার এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।



