22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকিশোরগঞ্জের মিঠামইনে দুই প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বস্তায় ভরে অপহরণের প্রচেষ্টা থামানো হয়

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে দুই প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বস্তায় ভরে অপহরণের প্রচেষ্টা থামানো হয়

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছাকাছি বুধবার দুপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুকে বস্তায় ভরে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা হস্তক্ষেপ করে শিশুরা নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

শিশু দুজনই মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। একজন হলেন কামালপুর গ্রাম থেকে ফারুক মিয়ার কন্যা ঝিনুক আক্তার, আর অন্যজন হলেন একই গ্রামের আব্দুল হকের কন্যা সুরাইয়া আক্তার। উভয় শিশুর বয়স প্রায় ছয় বছর, এবং তারা স্কুলে প্রথম দিনই উপস্থিত ছিল।

অপরাধীরা শিশুটিকে বস্তায় ভরে গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। বস্তাটি যথেষ্ট বড় ছিল যাতে দুই শিশুকে একসাথে ঢোকানো যায়, তবে শিশুরা বস্তার মধ্যে আটকে যাওয়ার মুহূর্তে আশেপাশের লোকজনের আওয়াজ শোনে।

বসতিতে আটকে থাকা শিশুরা কাঁদতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বস্তা ভেঙে শিশুটিকে বের করে নেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এই দ্রুত পদক্ষেপে শিশুরা কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই রক্ষা পায়।

উদ্বেগের মুহূর্তে মিঠামইন এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ভেসে ওঠে। রাস্তায় গুঞ্জন শোনা যায় যে কেউ শিশুকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছে, ফলে স্থানীয় মানুষজন একত্রিত হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এই ধরনের অপরাধের প্রতি এলাকার মানুষজনের সংবেদনশীলতা এবং সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঘটনাস্থলটি মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যেখানে স্থানীয় মানুষজনের ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটার সময় ওই এলাকায় কোনো ট্রাফিক জ্যাম বা বড় জনসমাগম ছিল না, ফলে দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্ভব হয়।

কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভানু রঞ্জন বিশ্বাস ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুর একটায় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং শিশুরা নিরাপদে বাড়ি ফেরে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে দেবে।

শিক্ষকের মতে, স্কুলের সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর একটায় শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটি থাকে, তাই শিশুরা সেই সময়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে বাড়ি ফিরেছিল। এই সময়ে ঘটনার তথ্য দ্রুত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।

মিঠামইন থানা ঘটনাটির জন্য সাধারণ ডায়রি রেজিস্টার করবে এবং তদন্তের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। থানা কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানার জন্য স্থানীয় সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হবে।

মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আব্দুল্লাহ‑বিন‑শফিক জানান, উদ্ধারকৃত দুই শিশুই শারীরিকভাবে সুস্থ এবং হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুরা জরুরি চিকিৎসা সেবা পেয়েছে এবং কোনো গুরুতর আঘাতের শঙ্কা নেই।

হাসপাতালে শিশুরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে। চিকিৎসা দল তাদের শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক শক কমাতে পরামর্শ দিচ্ছে। পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান। তদন্ত চলাকালীন অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একসাথে কাজ করে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments