লন্ডনের হাই কোর্টে প্রিন্স হ্যারি তার তৃতীয় মামলা নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন, যেখানে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড নিউসপেপারসের বিরুদ্ধে মিডিয়া গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করছেন। দুই ঘণ্টার প্রশ্নোত্তরের পর তিনি সম্ভবত শেষবারের মতো সাক্ষ্য দেবেন, যা তার দীর্ঘমেয়াদী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
এই মামলা তার তৃতীয় বড় আইনি সংঘর্ষ, পূর্বে তিনি একই সংবাদদল দলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা চালিয়েছেন। আদালতে তার উপস্থিতি বহু বছর ধরে চলমান মিডিয়া-রাজনীতির টানাপোড়েনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রিন্স হ্যারি উচ্চতা ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী লম্বা ও স্লিম, গাঢ় স্যুট ও টাই পরিহিত ছিলেন। তিনি সাক্ষ্যদানে দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করলেও, তার কণ্ঠস্বর মাঝে মাঝে কাঁপছিল, যা তার মানসিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
হ্যারি এই মামলাকে “ভয়ানক অভিজ্ঞতা” বলে বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি মিডিয়ার অব্যাহত হস্তক্ষেপকে তার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর আঘাতকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ তার এবং তার পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে তিনি তার স্ত্রী মেগানের ওপর মিডিয়ার আক্রমণকে “সম্পূর্ণ কষ্টদায়ক” বলে উল্লেখ করেন, যার ফলে তার জীবনের গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে। তার কণ্ঠস্বরের ভঙ্গুরতা এই কথাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রিন্স হ্যারি দাবি করেন যে সংবাদমাধ্যম অবৈধ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা তার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সরাসরি উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু প্রকাশনা তার এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
তার মতে, এইসব গল্পগুলো তার ব্যক্তিগত জীবনের বাণিজ্যিকীকরণ ঘটিয়েছে, যা তার আত্মমর্যাদা ও গোপনীয়তার ওপর আঘাত করেছে। তিনি আদালতকে এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার অনুরোধ করেন।
মিডিয়ার ক্রমাগত নজরদারির ফলে হ্যারি নিজেকে “প্যারানয়েড” অবস্থায় অনুভব করেন, যেখানে তিনি প্রতিটি দিক থেকে নজরদারির ভয় পান। এই অবস্থা তার পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে।
বিচারক মি. নিকলিন হ্যারি’কে প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং বিতর্ক না করতে নির্দেশ দেন। বিচারকের এই হস্তক্ষেপের পর হ্যারি শালীনভাবে উত্তর দিতে থাকেন, যদিও তার স্বরস্বরের মধ্যে কিছুটা বিরক্তি স্পষ্ট ছিল।
হ্যারি সাক্ষ্যদানের সময় শালীনতা বজায় রাখেন, তবে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশে সংযত থাকেন। তার উত্তরগুলো সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট, যা তার মানসিক চাপের মাঝেও তার পেশাদারিত্বকে তুলে ধরে।
সাক্ষ্যবক্সের চিহ্নিতকরণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি; অন্যান্য ডেস্কে থাকা প্লাস্টিকের সাইনগুলোর মতো একই চিহ্ন ছিল কিনা তা অজানা। তবে আদালতের পরিবেশের আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখা স্পষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, প্রিন্স হ্যারি তার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য মিডিয়ার আক্রমণকে একধরনের মানসিক কষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি সাংবাদিকদের কিছু অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, যে সব রিপোর্টেড গল্পই তার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ফল। এই সাক্ষ্য তার ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



