মিরপুরের গড়বড়া মাঠে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্স ১২ রানের ব্যবধানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে ফাইনাল খেলায় প্রবেশের স্বপ্ন ছিন্ন হয়েছে। টাইটান্স পূর্বে এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় দিয়ে ভিএপিএল যাত্রা শুরু করলেও, এই ম্যাচে তাদের শেষ হয়ে গেল।
সিলেট ২০ ওভারে ১৬৬ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ব্যাটিংয়ে নামল। তবে শুরুরই ঝড়ে দুই উইকেট হারিয়ে দলটি মাত্র ৭ রান তুলতে পারল, ফলে জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলাম দ্রুতই গিয়ে সিলেটের ব্যাটিং শৃঙ্খল ভেঙে দিল।
পরবর্তী পর্যায়ে পারভেজ হোসেন ইমন ও আন্তর্জাতিক ওপেনার স্যাম বিলিংসের সংযোগে টাইটান্সের শ্বাস ফিরে এলো। ইমন ৩৪ বলে ৫টি চৌকো ও ২টি ছক্কা মারিয়ে ৪৮ রান সংগ্রহ করে দলের রিফরেসিং পার্টনার হিসেবে কাজ করলেন। বিলিংসও মাঝারি গতি বজায় রেখে ৩৪ বলে ৩৭ রান (৩টি চৌকো, ১টি ছক্কা) যোগ করেন।
তবে ইমনের পরের ওভারে মঈন আলী মাত্র ৫ বলে ৭ রান করে দ্রুত আউট হয়ে গেল, আর বিলিংসের শীঘ্রই পতন টাইটান্সের রন রেটকে আবার নিচে নামিয়ে দিল। ইমন ও বিলিংসের পরের অংশীদার আফিফ হোসেন ধ্রুব ১২ বলে ২১ রান (২টি চৌকো, ১টি ছক্কা) যোগ করলেও শেষ পর্যন্ত দলটি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হল।
মেহেদী হাসান মিরাজ ১৩ বলে ৯ রান করে শেষ হয়ে গেলেন, আর শেষ মুহূর্তে টাইটান্সকে ১৭ বলে ৩৪ রান দরকার ছিল, যা অর্জন করা সম্ভব হল না। শেষের ওভারে ক্রিস ওকস, খালেদ আহমেদ ও নাসুম আহমেদ কোনো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, ফলে টাইটান্সের স্কোর ১৫৩/৮ এ আটকে গেল।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বলিং দলে লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৯ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়ে টাইটান্সের ব্যাটিংকে দমন করেন। তার পরের ওভারে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন, যা টাইটান্সের স্কোরকে আরও নিচে নামিয়ে দিল।
বাটিংয়ে রাজশাহী টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামল। তারা ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। দলের শীর্ষ স্কোরার কেভিন উইলিয়ামসন ৩৮ বলে ২টি ছক্কা ও ১টি চৌকো মারিয়ে ৪৫ রান নিয়ে অটল ছিলেন।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই পারফরম্যান্স তাদেরকে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হতে নিশ্চিত করেছে। চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ধাপের জন্য উভয় দলই প্রস্তুত, আর সিলেটের ভক্তরা টাইটান্সের পরবর্তী মৌসুমের জন্য আশাবাদী।
ম্যাচের পর কোচের মন্তব্যে টাইটান্সের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ও শুরুরই দ্রুত উইকেটের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহীর কোচ বললেন, “বিনুরার স্পিন এবং উইলিয়ামসনের স্থিতিশীলতা আমাদের জয় নিশ্চিত করেছে।”



