টটনহ্যাম হটস্পার তার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গৃহম্যাচে বোরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হয়ে মঙ্গলবার রাতের খেলায় কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের তীক্ষ্ণ কৌশলগত পদক্ষেপের আলোকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ক্লাবের কাছে মাত্র এগারোজন অভিজ্ঞ আউটফিল্ড খেলোয়াড়ই উপলব্ধ ছিল, ফলে ফ্র্যাঙ্ককে সীমিত বিকল্পের মধ্যে থেকে দল গঠন করতে হয়েছিল।
বাম-ব্যাকের পজিশনে ডজেড স্পেন্স এবং ডেস্টিনি উডোগির মধ্যে নির্বাচন প্রত্যাশিত ছিল, তবে ম্যাচের টিমশিট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে উভয় খেলোয়াড়ই স্টার্টিং এক্সিলে দেখা যায়, আর প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের ঋণাভিত্তিক র্যান্ডাল কোলো মুআনি বেঞ্চে রাখা হয়। মুআনির ঋণকাল শেষের দিকে এসে এই সিদ্ধান্ত তাকে তার পিএসজি থেকে এক সিজন লোনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
স্পার্সের ওয়ার্ম-আপে পেড্রো পোরো, কেভিন ড্যান্সো, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং উডোগি নিয়ে একটি ব্যাক ফোর গঠন দেখা যায়, যা অর্ধেকের কাছাকাছি হেডিং ড্রিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ডর্টমুন্ডের বিশ্লেষকরা এই দৃশ্যটি নোট করে, তবে ম্যাচের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ফ্র্যাঙ্কের গঠন পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি ৩-৪-২-১ ফরমেশন গ্রহণ করেন, যেখানে উডোগি বাম-সাইডের সেন্টার-হাফ হিসেবে এবং স্পেন্স বাম-সাইডের উইং-ব্যাক হিসেবে খেলেন।
এই গঠনটি ফ্র্যাঙ্কের পূর্বের তিন সেন্টার-হ্যাফ ব্যবহারের ধারাবাহিকতা, যা নভেম্বরের শেষের দিকে আরসেনাল বিরোধে দেখা গিয়েছিল। সেই ম্যাচে তিনি ৫-৪-১ দিয়ে শুরু করেন, তবে দ্বিতীয়ার্ধে ৪-৩-৩-এ পরিবর্তন করার পরেও দলটি ২-০ তে পিছিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৪-১ পরাজিত হয়। আরসেনালের পরের ম্যাচে টটনহ্যামকে ২-১ হোমে ওয়েস্ট হ্যাম পরাজিত করেছিল, ফলে ফ্র্যাঙ্কের চাকরির নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে এই গেমে ফ্র্যাঙ্কের ঝুঁকি গ্রহণের ফলাফল ইতিবাচক হয়েছে। টিমের গঠন ও খেলোয়াড়ের অবস্থান পরিবর্তন ম্যাচের প্রবাহকে পরিবর্তন করে, এবং টটনহ্যাম শেষ পর্যন্ত ডর্টমুন্ডকে পরাজিত করে। এই জয় ফ্র্যাঙ্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্বাসপ্রশ্বাস এনে দেয়, যা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে সহায়তা করবে।
প্রশিক্ষণ মাঠে দেখা গিয়েছিল যে উডোগি এবং স্পেন্স উভয়ই আক্রমণাত্মক ও রক্ষামূলক দায়িত্বে সমানভাবে যুক্ত ছিলেন, যা ডর্টমুন্ডের আক্রমণকে সীমিত করতে সাহায্য করে। পেড্রো পোরো, কেভিন ড্যান্সো এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মধ্যমাঠে দৃঢ়তা বজায় রাখে, ফলে টটনহ্যামের পাসের গতি ও বলের দখল বাড়ে। ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টটনহ্যাম অধিক শট তৈরি করে এবং ডর্টমুন্ডের গোলের সুযোগ সীমিত করে।
ফ্র্যাঙ্কের এই কৌশলগত পরিবর্তন টটনহ্যামের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকায় কোচের সিদ্ধান্তের ওপর নজর বাড়ছে। তবে ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে এই জয় তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও দল গঠনের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
আগামী সপ্তাহে টটনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে ফ্র্যাঙ্কের গঠন ও খেলোয়াড়ের নির্বাচন পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। ডর্টমুন্ডের সঙ্গে এই জয় তার দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং পরবর্তী ম্যাচে তার কৌশলগত পরিকল্পনা কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্ধারণের ভিত্তি হবে।



