মহানুভব হাফিজুদ্দিন খান, ৮৭ বছর বয়সী প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার উপদেষ্টা, আজ সন্ধ্যায় ঢাকা উটরা অঞ্চলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বয়সজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারে শোকের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে; স্ত্রী, দুজন কন্যা এবং বহু আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থক শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হয়েছেন।
হাফিজুদ্দিন খান স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ (TIB)-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিসের চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তিনি স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি বিরোধী নীতির অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল (CAG) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের আর্থিক তদারকি ও হিসাবরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
সকালবেলায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তিনি উটরা ক্রেসেন্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়; এই তথ্য তার নাতনি মৌশুমী মোস্তাফা থেকে জানা যায়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রোগীকে জীবন রক্ষার যন্ত্রে যুক্ত করা হয় এবং সন্ধ্যা ছয়টায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মৃতদেহটি উটরা জাহানারা ক্লিনিকের মর্টুয়ারিতে রাখা হয়, যেখানে পরিবার ও পরিচিতজনদের শেষ বিদায়ের জন্য অপেক্ষা করা হয়।
দুই কন্যা, যাঁরা বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন, আজই ঢাকায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে তারা পিতার শেষকৃত্য দেখার সুযোগ পান।
মৃতদেহটি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রাহমতগঞ্জ গ্রামভূমিতে, তার নিজ গৃহে শুক্রবারের মধ্যে দাফন করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হাফিজুদ্দিন খানের মৃত্যু দেশীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে; বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব ও নৈতিকতা বহুজনের জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে তাঁর অকাল প্রস্থান এই ক্ষেত্রের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক বাংলাদেশের বোর্ডে এখন শূন্যতা দেখা দেবে; সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
হাফিজুদ্দিন খানের মৃত্যুর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পূর্বে তিনি যে নীতি-নির্ধারক দায়িত্বে ছিলেন, সেসব সংস্থার মধ্যে তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার দরকার দেখা দেবে।
তাঁর পরিবার, বিশেষ করে কন্যারা, বিদেশ থেকে ফিরে এসে শোকের সময় কাটাবেন এবং পিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর গৃহে ফিরে গিয়ে তার স্মৃতিকে সম্মান জানাবেন।
হাফিজুদ্দিন খানের অবসরকালীন জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন, তবে তার কর্মজীবনের সাফল্য ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সহকর্মীরা একত্রিত হয়ে তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা দেশের বিভিন্ন কোণায় শোকের ছায়া ফেলবে।
এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে হাফিজুদ্দিন খানের অবদান ও নীতি-দর্শনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।



