28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ৮৯‑এ বয়সে পরলোকগমন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ৮৯‑এ বয়সে পরলোকগমন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ও সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খান, ৮৯ বছর বয়সে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারিক জরুরি অবস্থার কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর তার মামাতো ভাই লিয়াকত আলী থেকে পাওয়া গেছে।

মামাতো ভাই লিয়াকত আলী জানান, হাফিজ খান তার উত্তরার বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং হঠাৎ ঘটিত স্বাস্থ্য সমস্যার ফলে তিনি মারা গেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাফিজ খানকে সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হবে এবং কবরস্থানের ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত করা বাকি।

হাফিজ উদ্দিন খান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে সেবা করেছেন। তিনি ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ, পরিকল্পনা ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ডাক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বও সামলেছেন।

সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নাগরিক (সুজন) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে সুশাসনের প্রচারে কাজ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ব্যাংকিং খাতে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি বেসিক ব্যাংক লিমিটেড ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদগুলোতে তার নেতৃত্বে ব্যাংকগুলো গ্রাহক সেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

প্রায় পনেরো বছর আগে অবসর গ্রহণের পর থেকে তিনি উত্তরার বাড়িতে স্ত্রীসহ বসবাস করতেন। তার পরিবারে দুইটি কন্যা রয়েছে, যারা বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। পরিবারে তার সৎ চরিত্র ও নৈতিক গুণের জন্য তিনি সর্বদা সম্মানিত ছিলেন।

হাফিজ খান সিরাজগঞ্জের সমাজকল্যাণ মোড় এলাকার পরিচিত শিক্ষক কোব্বাদ আলী খানের পুত্র। স্থানীয় মানুষ তাকে সৎ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করে, এবং তার সামাজিক কাজকর্মের জন্য তিনি সম্মানিত ছিলেন।

মৃত্যুর পর কবরস্থানের বিষয়ে লিয়াকত আলী স্পষ্ট করে বলেন, হাফিজ খানকে সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হবে এবং কবরস্থানের প্রস্তুতি বর্তমানে চলছে। কবরস্থান নির্বাচন করা হয়েছে তার জন্মস্থান ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

রাজনৈতিক দিক থেকে হাফিজ উদ্দিন খানের প্রস্থান দেশের অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের সংখ্যা কমিয়ে দেবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কের অভাব নতুন উপদেষ্টা ও সচিবদের জন্য একটি ফাঁক তৈরি করবে। তবে তার অবদান ও নীতি-নির্ধারণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ সরকারে পরামর্শদাতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

হাফিজ খান তার কর্মজীবনে বহু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বচ্ছতা সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ব্যাংকিং সেক্টরের শীর্ষ পদে ছিলেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিদায়কে চিহ্নিত করে।

পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী, হাফিজ উদ্দিন খানের দেহ এখনো উত্তরার বাড়িতে রয়েছে এবং কবরস্থানের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই দাফন করা হবে। তার পরিবার ও সমবয়সীরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার নৈতিক ও পেশাগত আদর্শকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

৯৬/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments