গ্লোস্টারশায়ার কোর্টে ১০ সন্তানবিশিষ্ট ম্যান্ডি উইকসনকে ২৫ বছর ধরে শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক দমনসহ দাসত্বের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ভিকটিম, যাকে সংবাদমাধ্যমে K নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তার শোষণমূলক অবস্থার বিশদ তথ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়। এই মামলায় ফৌজদারি দায়িত্ব, জোরপূর্বক শ্রম এবং শারীরিক আঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
K ১৯৯৬ সালে প্রায় ষোলো বছর বয়সে উইকসনের কাছে হস্তান্তরিত হন, যখন তার পরিবারে সমস্যার অবস্থা চলছিল। তার পরিবার ও উইকসনের মধ্যে দুর্বল সংযোগের ফলে তাকে বাড়িতে রাখা হয়। তখন থেকে K-কে উইকসনের টেকসই বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং তাকে দাসের মতো ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, উইকসন K-কে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার কাজ করাতেন, যদিও বাড়ির অবস্থা অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ছিল। K-কে খাবার হিসেবে কেবল অবশিষ্টাংশই দেওয়া হতো, এবং তার মুখে ব্লিচের দাগ, গলা দিয়ে ডিশ ওয়াশিং লিকুইড ঢালার মতো শারীরিক নির্যাতন করা হতো। তার চুলও তার ইচ্ছার বিপরীতে বারবার কেটে নেওয়া হতো, যা তার আত্মসম্মানকে ক্ষুণ্ণ করেছিল।
মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২১ তারিখে, উইকসনের এক পুত্র তার বোনের অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশকে জানায়। তৎপরতা দেখিয়ে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে এবং K-কে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে K-কে মাথা নিচু করে ধরে রাখা অবস্থায় দেখা যায়, তার চেহারা ছিল অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ও দুর্বল। তার চুল ছোট এবং পোশাকটি পুরনো ও ছেঁড়া ছিল।
গ্লোস্টারশায়ার ক্রাউন কোর্টে বিচারক ইয়ান লরি মামলাটিকে “ডিকেন্সীয় গুণাবলী”যুক্ত বলে উল্লেখ করেন, কারণ শোষণের সময়কাল ও শর্তাবলী ভিকটিমের জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিচারক বলেন, দাসত্বের সময়কাল এবং শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ স্পষ্টভাবে উপস্থিত ছিল, যা আদালতে অপরাধের গম্ভীরতা তুলে ধরেছে।
প্রসিকিউশন দল জুরি সমক্ষে উপস্থাপন করে যে, ১৯৯০-এর শেষের দিকে K হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তার কোনো রেকর্ড বা বাহ্যিক সাক্ষাৎকারের প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই অদৃশ্যতা তাকে একটি “কালো গর্তে” ফেলে দেয়, যেখানে তিনি কেবল বাড়ির ভিতরে সীমাবদ্ধ ছিলেন। আদালতে জানানো হয় যে, K-কে নিয়মিতভাবে বামন দিয়ে মারধর করা হতো এবং কখনও কখনও ঝাড়ু হ্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করা হতো, যার ফলে তার দাঁত ভেঙে যায়।
বিচার শেষে উইকসনকে জোরপূর্বক শ্রম, অবৈধ আটক এবং শারীরিক আঘাতের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা ও ভিকটিমের পুনর্বাসনের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ পান।
বিচার পর K-কে ফস্টার পরিবারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোর্টের মাধ্যমে ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হবে।
এই মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে অনুরূপ শোষণমূলক ঘটনার প্রতিরোধে বাড়ি-পরিদর্শন ও সামাজিক সেবার তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে দাসত্বের অপরাধের গম্ভীরতা ও শিকারীর অধিকার রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



